মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

‘শিশুদের চোখে জুলাই’ সাংস্কৃতিক উৎসবে নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐতিহাসিক চেতনা সঞ্চার

‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শিরোনামে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’-এর দ্বিতীয় দিনটি শিশু শিল্পীদের পরিবেশনা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার শিশুদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও ঐতিহাসিক চেতনা জাগরণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

রোববার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শিশু শিল্পীদের কুরআন তেলাওয়াত, জুলাইয়ের গান এবং আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সূচনা হয়। এরপর তাহসিন প্রিন্স ও ওরাকা বিন বাশার পরিচালিত “দ্যা মিরর গেইম” এবং জুলাই সম্পর্কিত বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

দুপুর আড়াইটা থেকে মূল আয়োজন কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এই সেশনে উপস্থিত অতিথিরা বক্তব্য পেশ করেন এবং আমন্ত্রিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের স্মৃতিচারণ করেন। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে চির অম্লান করে রাখতে হবে। গ্রাফিতি, চিত্রাঙ্কন ও সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে নতুন সাংস্কৃতিক আবহ গড়ে তোলার উপর জোর দেন তারা।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিশুদের ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে নতুন সংস্কৃতির আলোকে গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশই নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিশা দিতে পারে। তিনি এই আয়োজনের জন্য সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে জুলাইয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে জুলাইকে টিকিয়ে রাখার জন্য সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। জুলাইয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর শর্টফিল্ম ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এ দেশের মানুষের মাঝে জুলাইয়ের জাগরণকে চিরস্থায়ী করে রাখতে হবে।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই’ শব্দটি শোনামাত্রই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ২০২৪ সালের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা, সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমরা পড়ে গিয়েও কীভাবে আবার বুক টান করে দাঁড়িয়ে যেতে পারি, সেই শিক্ষা শহীদ আবু সাঈদ আমাদের দিয়ে গেছেন। ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান শিশুদের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাসানচর থেকে পালানোর চেষ্টাকালে ৯ রোহিঙ্গা আটক

‘শিশুদের চোখে জুলাই’ সাংস্কৃতিক উৎসবে নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐতিহাসিক চেতনা সঞ্চার

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শিরোনামে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’-এর দ্বিতীয় দিনটি শিশু শিল্পীদের পরিবেশনা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার শিশুদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও ঐতিহাসিক চেতনা জাগরণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

রোববার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শিশু শিল্পীদের কুরআন তেলাওয়াত, জুলাইয়ের গান এবং আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সূচনা হয়। এরপর তাহসিন প্রিন্স ও ওরাকা বিন বাশার পরিচালিত “দ্যা মিরর গেইম” এবং জুলাই সম্পর্কিত বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

দুপুর আড়াইটা থেকে মূল আয়োজন কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এই সেশনে উপস্থিত অতিথিরা বক্তব্য পেশ করেন এবং আমন্ত্রিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের স্মৃতিচারণ করেন। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে চির অম্লান করে রাখতে হবে। গ্রাফিতি, চিত্রাঙ্কন ও সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে নতুন সাংস্কৃতিক আবহ গড়ে তোলার উপর জোর দেন তারা।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিশুদের ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে নতুন সংস্কৃতির আলোকে গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশই নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিশা দিতে পারে। তিনি এই আয়োজনের জন্য সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে জুলাইয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে জুলাইকে টিকিয়ে রাখার জন্য সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। জুলাইয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর শর্টফিল্ম ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এ দেশের মানুষের মাঝে জুলাইয়ের জাগরণকে চিরস্থায়ী করে রাখতে হবে।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই’ শব্দটি শোনামাত্রই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ২০২৪ সালের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা, সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমরা পড়ে গিয়েও কীভাবে আবার বুক টান করে দাঁড়িয়ে যেতে পারি, সেই শিক্ষা শহীদ আবু সাঈদ আমাদের দিয়ে গেছেন। ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান শিশুদের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে।