কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়ায় খিরাই নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু মেরামতের সময় ভেঙে ইটবোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর পড়ে গেছে। এই দুর্ঘটনায় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭ জন শ্রমিক প্রাণে রক্ষা পেলেও বাল্কহেডটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় মালামাল নদীতে তলিয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, প্রাণে বাঁচলেও তার মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগে থাকা কাপড়-চোপড় ও ঘুমানোর চাদরসহ সবকিছু নদীতে হারিয়ে গেছে। টাকার অভাবে দুর্ঘটনার পর থেকে না খেয়েই রয়েছেন তিনি।
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী বলেন, ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ৪০ হাজার ইট নিয়ে ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে শনিবার ভোরে রওনা দেন। সন্ধ্যায় খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচে পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো সেতুটি বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ে। তখন সবাই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাল্কহেডটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সেতুর পাটাতন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। এ কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি মেরামতের কাজ শুরু করে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় শ্রমিকরা না বুঝেই বেইলি সেতুর সংযোগের নাট খুলে ফেলেন। এতে পুরো সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সেতুটি ভেঙে পড়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দাউদকান্দি উপজেলার পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম দৈনিক আমার দেশকে বলেন, ব্রীজটি খুলে ফেলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছিল। খোলার সময় অজ্ঞতার কারণে এটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এখানে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















