বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ঢাকার নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো যখন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন, তখন বাংলাদেশ এই প্রস্তাবটি পেশ করে। সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বিদ্যমান। উক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করছে। এর প্রত্যুত্তরে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং পাশাপাশি এলএনজি হিসেবেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জ্বালানিমন্ত্রীও তার এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন।
সাক্ষাৎকালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের অতীতের প্রস্তাবটি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসার ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়।
জ্বালানি খাতের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে বেগবান করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দু’দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান যে, তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও মিয়ানমার সফর করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নির্মাণের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আরও অনেক সম্ভাবনার ক্ষেত্র অনুসন্ধান করা যেতে পারে। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ এই নীতি বিবেচনায় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক সদিচ্ছার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রিপোর্টারের নাম 



















