বরিশালের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। আমার দেশ-এ প্রকাশিত সংবাদ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এই বদলি কার্যকর হলো। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নিয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডা. মনিরুজ্জামানকে ৩ আগস্টের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত করা হবে। রোববার দুপুরে এই আদেশ বরিশালে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
গত ৩০ জুলাই সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই সিভিল সার্জনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘স্বাচিপ নেতাকে সিভিল সার্জন করায় বরিশালে তোলপাড়’ শিরোনামে গত ২৬ জুলাই আমার দেশ-এ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের ব্যানারে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের ফলে যোগদানের শেষ দিনেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেননি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না। আন্দোলন অব্যাহত থাকায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অচলবস্থা সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন যে, নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন পলাতক শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। ৫ আগস্টের পর গৌরনদী থেকে মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা হলেও, এখন তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশালের সিভিল সার্জন করা হয়েছে। এই ঘটনাটি বিগত সরকারের আমলে দলীয়করণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
রিপোর্টারের নাম 



















