ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদ: বিএনপির শপথ না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এমপি মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে, সেখানে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করায় জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাসুদ সাঈদী এসব মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কি জুলাই সনদে বিশ্বাসী? গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি তারা কি শ্রদ্ধাশীল? এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কি আগ্রহী? এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাসুদ সাঈদী আশা প্রকাশ করেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং গণভোট ২০২৬-এর গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদে উল্লিখিত বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে এবং দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়ে একই সাথে ফল প্রকাশ ও গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও একটি বাস্তবায়ন হলেও অপরটি কেন হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জনগণের ভোটে পাস হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব বলেও তিনি জোর দেন।

বাংলাদেশকে একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ কায়েমের আহ্বান জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, ইনসাফ কায়েম ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে এখনই কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে, যাতে কোনো সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। এছাড়াও, সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও এর মূলোৎপাটনের জন্য এর শিকড়ে হাত দিতে হবে। মন্ত্রী, এমপি, আমলা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী যে কেউই হোক না কেন, দুর্নীতি করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকার অপচয় রোধে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ঘোষণার পর বিএনপি দলীয়সহ অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়িসহ সব বিশেষ সুবিধা বর্জনের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রস্তাব দেয়নি ইরান

সংবিধান সংস্কার পরিষদ: বিএনপির শপথ না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এমপি মাসুদ সাঈদী

আপডেট সময় : ১০:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে, সেখানে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করায় জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাসুদ সাঈদী এসব মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কি জুলাই সনদে বিশ্বাসী? গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি তারা কি শ্রদ্ধাশীল? এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কি আগ্রহী? এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাসুদ সাঈদী আশা প্রকাশ করেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং গণভোট ২০২৬-এর গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদে উল্লিখিত বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে এবং দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়ে একই সাথে ফল প্রকাশ ও গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও একটি বাস্তবায়ন হলেও অপরটি কেন হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জনগণের ভোটে পাস হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব বলেও তিনি জোর দেন।

বাংলাদেশকে একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ কায়েমের আহ্বান জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, ইনসাফ কায়েম ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে এখনই কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে, যাতে কোনো সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। এছাড়াও, সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও এর মূলোৎপাটনের জন্য এর শিকড়ে হাত দিতে হবে। মন্ত্রী, এমপি, আমলা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী যে কেউই হোক না কেন, দুর্নীতি করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকার অপচয় রোধে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ঘোষণার পর বিএনপি দলীয়সহ অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়িসহ সব বিশেষ সুবিধা বর্জনের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।