ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ: বিএনপি নেতাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক কৃষকের বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনিরুল হক মনিরসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে বাদীর আইনজীবী মহসিন কবির মুরাদ জানান, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাদীর বসতঘর ভাঙচুর করে ভিটা কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। কমলনগরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক আরিফ হোসেন মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করেন।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত মনিরুল হক মনির কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং একই গ্রামের বাসিন্দা। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মনিরের ছেলে হারুন চৌধুরী জুয়েল, আকরাম হোসেন, মেয়ে মুন্নি বেগম এবং স্ত্রী জেসমিন বেগমসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভাঙচুর হওয়া বসতভিটার জমিটি বাদী শাহিদা আক্তারের স্বামী রেজাউল হকের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি। প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে তারা সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা মনিরুল হক মনির দীর্ঘদিন ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এরই জেরে গত বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে মনিরসহ অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় এবং ভিটা কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে বাদী, তার স্বামী ও পুত্রবধূকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় ঘর নির্মাণ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই হামলায় তাদের প্রায় ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বাদীর ছেলে আজিজুল হক আজগর জানান, “আমরা এখন অত্যন্ত অসহায় জীবনযাপন করছি। থাকার মতো কোনো ঘর নেই, পুরো বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মনিরুল হক মনির বলেন, “জমিটি আসলে আমাদের। তারা জোরপূর্বক সেখানে বসবাস করছিল। নিজেদের ঘর নিজেরাই ভেঙে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের পরিপন্থী: মিয়া গোলাম পরওয়ার

লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ: বিএনপি নেতাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১১:৪০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক কৃষকের বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনিরুল হক মনিরসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে বাদীর আইনজীবী মহসিন কবির মুরাদ জানান, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাদীর বসতঘর ভাঙচুর করে ভিটা কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। কমলনগরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক আরিফ হোসেন মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করেন।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত মনিরুল হক মনির কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং একই গ্রামের বাসিন্দা। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মনিরের ছেলে হারুন চৌধুরী জুয়েল, আকরাম হোসেন, মেয়ে মুন্নি বেগম এবং স্ত্রী জেসমিন বেগমসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভাঙচুর হওয়া বসতভিটার জমিটি বাদী শাহিদা আক্তারের স্বামী রেজাউল হকের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি। প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে তারা সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা মনিরুল হক মনির দীর্ঘদিন ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এরই জেরে গত বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে মনিরসহ অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় এবং ভিটা কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে বাদী, তার স্বামী ও পুত্রবধূকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় ঘর নির্মাণ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই হামলায় তাদের প্রায় ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বাদীর ছেলে আজিজুল হক আজগর জানান, “আমরা এখন অত্যন্ত অসহায় জীবনযাপন করছি। থাকার মতো কোনো ঘর নেই, পুরো বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মনিরুল হক মনির বলেন, “জমিটি আসলে আমাদের। তারা জোরপূর্বক সেখানে বসবাস করছিল। নিজেদের ঘর নিজেরাই ভেঙে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”