ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর অপর পাশে অবস্থিত চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটি শালেপুর গ্রামে খালের পানির ওপর দিয়ে মাটির রাস্তা নির্মাণ করে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করেছেন স্পেন প্রবাসী বিএনপি নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক। তার এই উদ্যোগে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এই খালের পানি প্রবাহ সচল রেখে তার ওপর দিয়ে মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়, যা চরাঞ্চলের ঘোড়ার গাড়ি, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল এবং ট্রাক্টরের চলাচল নির্বিঘ্ন করেছে। এর আগে দীর্ঘকাল ধরে একটি বাঁশের সাঁকোর কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে এলাকাবাসীকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হতো।
এছাড়াও, ইউনুছ আলী প্রামানিক পদ্মা নদীর শালেপুর ট্রলার ঘাটে যাত্রীদের বিশ্রাম ও নিরাপত্তার জন্য একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছেন এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে ট্রলার যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শালেপুর গ্রামের ৩৮ বছর বয়সী বাসিন্দা সেন্টু শিকদার বলেন, “আমরা চরের মানুষ হওয়ায় আমাদের সুখ-দুঃখের প্রতি খুব কমই কেউ নজর দেয়। কিন্তু ইউনুছ আলী প্রামানিক আমাদের যাতায়াতের কষ্টের কথা শুনে খালের ওপর রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন এবং ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও টিউবওয়েল বসিয়েছেন। আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।”
একই এলাকার ৫০ বছর বয়সী ট্রলার যাত্রী শামেলা খাতুন বলেন, “বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টিতে ঘাটে দাঁড়িয়ে ট্রলারের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। একটি খালের কারণে গাড়ি-ঘোড়া পার হতে পারত না। কিন্তু ইউনুছ আলী প্রামানিক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করেছেন।”
সরেজমিনে দেখা যায়, বছরের প্রায় আট মাস পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে বিশাল ফসলি চরে পরিণত হয়। উপজেলা সদর থেকে ট্রলারে প্রায় ১৫ মিনিটে শালেপুর চরে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের লোকালয়ে যেতে হয়। এই পথে ভাটি শালেপুর খালের ওপর আগে শুধুমাত্র একটি বাঁশের সাঁকো ছিল, যার কারণে ভারী যানবাহন পারাপারে সমস্যা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে ইউনুছ আলী প্রামানিক নিজ খরচে বাঁশের সাঁকোর পাশে ভারী কাঠের গুঁড়ি বসিয়ে তার ওপর মাটি ফেলে প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করেন। এর মাধ্যমে নৌচলাচল অব্যাহত রেখে চরাঞ্চলে যানবাহন চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার মুঠোফোনে ইউনুছ আলী প্রামানিক জানান যে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখলে তিনি চুপ থাকতে পারেন না এবং দীর্ঘকাল ধরে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















