সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নীতাই রায় চৌধুরী দেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাঠাগার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার জগতে ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।
রোববার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে জাতীয় নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এবার বইমেলা না হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। প্রকাশকদের একাংশ আর্থিক ক্ষতি ও রমজান মাসের অজুহাতে মেলা বন্ধের পক্ষে থাকলেও, সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে তিনি দ্রুত মেলা আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।
অতীতের শিক্ষা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে চাইলে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঠাগার ধ্বংস করাই যথেষ্ট। তিনি বলেন, এক সময় দায়িত্ববান ব্যক্তিরা খাতায় না লিখলেও ৯৮ শতাংশ পাস করানোর সংস্কৃতি চালু করেছিলেন, যা জাতিকে মেধাশূন্য করার একটি অপচেষ্টা ছিল। তিনি ২০০৮ সাল থেকে পরবর্তী ১৮ বছরের সময়কালকে ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই সময়ে দেশে ভোটাধিকার ছিল না এবং লুটপাটের অর্থনীতি সমাজকে গ্রাস করেছিল।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তনের মূল চেতনা ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন করা। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা, যেখানে ভিন্ন মত ও আদর্শের সহাবস্থান থাকবে এবং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও যোগ করেন, লুটেরা পুঁজি ও আধিপত্যবাদী শক্তির সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির পরিবর্তে আমরা একটি শক্তিশালী জাতীয় পুঁজি গঠন করতে চাই।
বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কৃতি হলো জাতির দর্পণ এবং আত্মা। সরকার শুধুমাত্র গান-বাজনার মধ্যে সংস্কৃতিকে সীমাবদ্ধ না রেখে একে মানুষের সামগ্রিক আচরণের উৎকর্ষ সাধনে ব্যবহার করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পাঠাগার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে সরকার বই কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























