ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

রোববার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কেবল কথার সরকার নয়, বরং বাস্তব ফলাফল দেখাতে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর দেশে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ প্রয়োজন, আর সেই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। তাই বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার এবং ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আসন্ন ঈদের পর অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও একটি বৈঠক করা হবে। এই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সমস্যা, কন্টেইনার জটসহ ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে এবং এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুশাসনের ঘাটতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই দেশে প্রশাসনিক দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার ফলাফল দেখাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রস্তাব দেয়নি ইরান

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:১৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

রোববার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কেবল কথার সরকার নয়, বরং বাস্তব ফলাফল দেখাতে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর দেশে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ প্রয়োজন, আর সেই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। তাই বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার এবং ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আসন্ন ঈদের পর অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও একটি বৈঠক করা হবে। এই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সমস্যা, কন্টেইনার জটসহ ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে এবং এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুশাসনের ঘাটতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই দেশে প্রশাসনিক দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার ফলাফল দেখাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।