ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে আটকে বাংলাদেশি জাহাজ: ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে অনিশ্চিত যাত্রা, কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) একটি জাহাজ। ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ নামের এই জাহাজে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে মাত্র ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে নাবিকেরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পান। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রণালি অতিক্রম না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরপরই জাহাজটি পারস্য উপসাগরে তার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে।

বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে। যেহেতু এটি এখনও হরমুজ অঞ্চলের আওতাধীন, তাই কাতার থেকে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। এরপর কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছায়। তবে পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে দ্রুতই পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএসসি জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই পরিস্থিতিতে জাহাজটি এবং এর নাবিকদের নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর উদ্যোগ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএসসি। সরকার দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণ শুরু

হরমুজ প্রণালিতে আটকে বাংলাদেশি জাহাজ: ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে অনিশ্চিত যাত্রা, কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) একটি জাহাজ। ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ নামের এই জাহাজে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে মাত্র ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে নাবিকেরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পান। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রণালি অতিক্রম না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরপরই জাহাজটি পারস্য উপসাগরে তার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে।

বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে। যেহেতু এটি এখনও হরমুজ অঞ্চলের আওতাধীন, তাই কাতার থেকে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। এরপর কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছায়। তবে পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে দ্রুতই পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএসসি জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই পরিস্থিতিতে জাহাজটি এবং এর নাবিকদের নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর উদ্যোগ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএসসি। সরকার দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।