টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌ-রুটে স্পিডবোট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে এই সেবা চালু হওয়ায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো সন্দ্বীপবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নিয়মিতভাবে এই সার্ভিস সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্পিডবোট পরিচালনা সংস্থা আরকে এন্টারপ্রাইজ।
আরকে এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন নয়ন জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় ৯ হাজার লিটারের একটি অকটেনবাহী লরি ঘাটে পৌঁছানোর পর অচলাবস্থা কেটে যায়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, নির্ধারিত ২৫০ টাকা ভাড়ার অতিরিক্ত এক টাকাও নেওয়া হবে না এবং যাত্রী হয়রানি রোধে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবেন।
জ্বালানি সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়ামের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক দফা আলোচনা ও দেন-দরবার করেছেন। তিনি জানান, জনস্বার্থে কর্মকর্তাদের সাথে কিছুটা তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত ইজারাদারকে সরাসরি অকটেন সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন।
এছাড়াও, প্রশাসনিক পর্যায়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে জানান, জনস্বার্থের এই বিষয়ে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আজ থেকে যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৩ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হলেও ঈদের চাপ সামলাতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫০০ লিটারে। বর্তমানে প্রাপ্ত ৯ হাজার লিটার অকটেন দিয়ে বড়জোর দুই দিন চলাচল সচল রাখা সম্ভব। অথচ পুরো ঈদ মৌসুমের চাহিদা মেটাতে প্রায় ৮০ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত সোমবার থেকে এই রুটে স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে আদিল ও আরকে এন্টারপ্রাইজের মোট ২৫টি বোট এই রুটে চলাচল করছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিসের ৮টি বোট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। স্পিডবোট ছাড়াও এই রুটে বর্তমানে একটি ফেরি ও একটি সি-ট্রাক নিয়মিত চলাচল করছে, যা যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন সুবিধা দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























