কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় হলুদ-মরিচ ভাঙানোর মেশিনের চেইনে বোরকা পেঁচিয়ে এক গৃহবধূ মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। গত রোববার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই ‘গত রোববার’ ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা বাদ দেওয়া যেতে পারে) বেলা সোয়া ১২টার দিকে দাউদকান্দি পৌর বাজারে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিনা আক্তার (৩৫) উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপেচর গ্রামের সাহাবুদ্দীনের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন দুপুরে সাহাবুদ্দীন ও তার স্ত্রী শাহিনা ঈদের কেনাকাটা শেষে হলুদ-মরিচ ভাঙাতে বাজারের মনির হোসেনের দোকানে যান। হলুদ ভাঙানোর একপর্যায়ে শাহিনা আক্তারের বোরকা মেশিনের চেইনের সঙ্গে পেঁচিয়ে যায় এবং মুহূর্তেই তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহতের স্বামী সাহাবুদ্দীন ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমরা হলুদ ভাঙাতে দোকানে যাই। পাশেই দাঁড়িয়েছিল আমার স্ত্রী। এমন সময় স্ত্রীর উফ একটি শব্দ শুনতে পাই। চোখের পলকেই এক সেকেন্ডের মধ্যে চেয়ে দেখি আমার স্ত্রীর মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে।’
বাজারের ব্যবসায়ী তৌফিক রুবেল, যিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, জানান, তিনি দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একজন মহিলাকে পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করেন। তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি যে মহিলার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই দৃশ্য দেখে তিনিও হতবাক হয়ে যান।
নিহতের দেবর আতাউর রহমান জানান, বাজারে এসে হলুদ ভাঙার মেশিনে পেঁচিয়ে তার ভাবি মারা যান। শাহিনার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এই ঘটনায় তাদের পরিবারে গভীর শোকের মাতম চলছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. সামছুল আলম প্রধান বলেন, ঘটনাটি তাদের থানা থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে ঘটেছে। খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং সুরতহাল সম্পন্ন করেন। দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম আব্দুল হালিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























