ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সুরমা নদী রক্ষায় নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি: সিলেট সিটি প্রশাসক

সিলেটের সুরমা নদীকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, সুরমা নদীর দুই তীরে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই জটিল সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা এবং নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা।

শনিবার আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুরমার দূষণ’ শীর্ষক এক আর্ট ক্যাম্পে সিসিক প্রশাসক এসব কথা বলেন। সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার সিলেট এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা সিলেটের যৌথ উদ্যোগে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাট এলাকায় এই আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উল্লেখ করেন, একসময় সুরমা নদী ছিল স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত, কিন্তু বর্তমানে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, যা পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে সিলেট শহরের ছোট-বড় প্রায় ৫০টি খাল ও ছড়া ময়লা-আবর্জনায় ভরে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।

সিসিক প্রশাসক জানান, সুরমা নদীকে দূষণমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অনেক সময় কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে যাওয়ায় তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, তারা এই শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলবেন। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে এখন থেকেই ড্রেন বা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক, সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, পরিবেশকর্মী অরূপ শ্যাম বাপ্পী ও গোলাম সোবহান চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াবের নতুন সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কমিটি

সুরমা নদী রক্ষায় নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি: সিলেট সিটি প্রশাসক

আপডেট সময় : ১০:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

সিলেটের সুরমা নদীকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, সুরমা নদীর দুই তীরে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই জটিল সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা এবং নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা।

শনিবার আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুরমার দূষণ’ শীর্ষক এক আর্ট ক্যাম্পে সিসিক প্রশাসক এসব কথা বলেন। সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার সিলেট এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা সিলেটের যৌথ উদ্যোগে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাট এলাকায় এই আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উল্লেখ করেন, একসময় সুরমা নদী ছিল স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত, কিন্তু বর্তমানে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, যা পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে সিলেট শহরের ছোট-বড় প্রায় ৫০টি খাল ও ছড়া ময়লা-আবর্জনায় ভরে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।

সিসিক প্রশাসক জানান, সুরমা নদীকে দূষণমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অনেক সময় কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে যাওয়ায় তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, তারা এই শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলবেন। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে এখন থেকেই ড্রেন বা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক, সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, পরিবেশকর্মী অরূপ শ্যাম বাপ্পী ও গোলাম সোবহান চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।