গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে ইসরাইলি বাহিনী আবারও গাজা উপত্যকা জুড়ে বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। রোববার চালানো এসব হামলায় দুই শিশু ও এক অনাগত শিশুসহ অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গাজায় নতুন করে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিন পরই ইসরাইল নতুন করে এই হামলা চালাল।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ:
• দক্ষিণ গাজা (খান ইউনিস): খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমের আল-কারারা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—মাহমুদ জাকি আল-হামস (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা আল-হামস (৩৭) এবং তাদের ছোট মেয়ে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসের কেন্দ্রে দার আল-সালাম এলাকায় ইসরাইলি গোলন্দাজ বাহিনী গোলাবর্ষণ করলেও সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
• মধ্য গাজা (দেইর আল-বালাহ): দেইর আল-বালাহর আল-মাশালা এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরাইলি হেলিকপ্টার হামলায় কামাল আবু মুয়াইলিক (৬৮) এবং তার স্ত্রী হুদা (৫৯) নিহত হন। একই শহরে একটি মোটরসাইকেলে পৃথক বিমান হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারান।
• গাজা সিটি: গাজা সিটির আল-সুসি টাওয়ারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় আব্দুল্লাহ আবু তাইফ (৩৩), তার স্ত্রী আবীর আনান (২৯), তাদের ৫ বছরের ছেলে আজ্জাম এবং তাদের অনাগত শিশু নিহত হয়। অন্যদিকে, শহরের পশ্চিমের আল-নাসর এলাকায় ফিলিস্তিন মসজিদের কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় একজন গুরুতর আহত হন এবং আল-তুফাহ এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।
• উত্তর গাজা: জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে সরাসরি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং অপরজন আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন।
যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
গত শুক্রবার ট্রাম্প ও বোর্ড অব পিস যুদ্ধবিরতির নতুন রোডম্যাপে হামাসের সম্মতির কথা জানালেও ইসরাইল এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, অব্যাহত হামলা এবং ত্রাণ সরবরাহে বিধিনিষেধের কারণে এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি ‘মরীচিকা’ বা প্রতারণায় পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে ইসরাইল হাজার হাজার বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 


















