ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমপির সঙ্গে প্রকাশ্যে, পুলিশ বলছে ‘পলাতক’

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল। অথচ মোহনপুর থানা পুলিশ বলছে, রাসেল পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনা রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে এমপি শফিকুল হক মিলন ঢাকা থেকে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছালে রাসেল তাকে রিসিভ করেন। এরপর এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে কেশরহাটে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দেন রাসেল। বিমানবন্দরে এমপির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি রাসেল তার ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে রওনা।’ তবে কিছুক্ষণ পরেই ছবিটি মুছে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, কে হত্যা মামলার আসামি, তা খোঁজ রাখার সময় তার নেই। তিনি জানান, বিমানবন্দরে তার পরিচিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তার সম্পর্কে যতটুকু তিনি জানেন, রাসেলের নামে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী বা দাগি আসামি নন।

গত ৭ মার্চ মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী ও উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন নিহত হন। ঈদের নামাজে ইমামতি করা নিয়ে বিরোধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার ১ নম্বর আসামি হলেন রাইসুল ইসলাম রাসেল।

কেশরহাট পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না, এটা আশ্চর্যজনক।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় বর্তমানে দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক মোদাচ্ছের হোসেন খান বলেন, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র তারা পাননি এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর মোহনপুর থানার আওতাধীন নয় এবং ইফতারে কে ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

এদিকে, এমপি শফিকুল হক মিলন দাবি করেছেন, জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াবের নতুন সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কমিটি

হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমপির সঙ্গে প্রকাশ্যে, পুলিশ বলছে ‘পলাতক’

আপডেট সময় : ১০:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল। অথচ মোহনপুর থানা পুলিশ বলছে, রাসেল পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনা রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে এমপি শফিকুল হক মিলন ঢাকা থেকে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছালে রাসেল তাকে রিসিভ করেন। এরপর এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে কেশরহাটে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দেন রাসেল। বিমানবন্দরে এমপির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি রাসেল তার ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে রওনা।’ তবে কিছুক্ষণ পরেই ছবিটি মুছে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, কে হত্যা মামলার আসামি, তা খোঁজ রাখার সময় তার নেই। তিনি জানান, বিমানবন্দরে তার পরিচিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তার সম্পর্কে যতটুকু তিনি জানেন, রাসেলের নামে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী বা দাগি আসামি নন।

গত ৭ মার্চ মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী ও উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন নিহত হন। ঈদের নামাজে ইমামতি করা নিয়ে বিরোধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার ১ নম্বর আসামি হলেন রাইসুল ইসলাম রাসেল।

কেশরহাট পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না, এটা আশ্চর্যজনক।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় বর্তমানে দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক মোদাচ্ছের হোসেন খান বলেন, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র তারা পাননি এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর মোহনপুর থানার আওতাধীন নয় এবং ইফতারে কে ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

এদিকে, এমপি শফিকুল হক মিলন দাবি করেছেন, জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।