দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় অবস্থানরত তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নাশকতার আশঙ্কায় এসব জাহাজে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের অতীত ঘটনা মাথায় রেখে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন শঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও বিভিন্ন জেটিতে ১৫টি এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল এবং ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে, ফলে তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে, বিদ্যমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো অপশক্তি নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে বলে বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন।
বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে এলপিজিবাহী দুটি, এলএনজিবাহী পাঁচটি, গ্যাসবাহী দুটি, হাইপার সালফারবাহী দুটি, কেমিকেলবাহী একটি, ক্রুড অয়েলবাহী একটি এবং ডিজেলবাহী দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় রয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ এবং ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের দুটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে ‘এসপিটি থেমিস’ এবং আগামী ১৪ মার্চ ৬০ হাজার টন করে ডিজেল নিয়ে ‘র্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ৪০ হাজার টন ফার্নেস অয়েলবাহী দুটি জাহাজও ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় নোঙর করেছে। এছাড়া, ‘আল জোর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’ নামের তিনটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ টন এলএনজি রয়েছে। আজ বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামের আরও একটি এলএনজি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছালে মোট এলএনজির পরিমাণ আড়াই লাখ টনের বেশি হবে। এর বাইরে কাতারের রাস লাফান বন্দরে ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে, যা প্রয়োজনে দেশের পথে রওনা দেবে।
রিপোর্টারের নাম 























