ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

হুমকি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতিতে নারাজ ইরান, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে দেশটি। কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি বৃদ্ধির মধ্যেই এমন অনড় মনোভাব দেখাচ্ছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যদি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে, তবে উপসাগর থেকে কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানজুড়ে এযাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র ও সুসমন্বিত বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে, যার লক্ষ্য দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। এই ভয়াবহ সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান নতি স্বীকার করতে নারাজ।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, যিনি প্রাক্তন শীর্ষ বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার এবং খামেনির মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি চাইছি না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আক্রমণকারীকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে, যাতে সে শিক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো আমাদের প্রিয় ইরানে হামলার কথা না ভাবতে পারে।”

জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হামলার ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রগামী তেলের এক-চতুর্থাংশ এবং সমস্ত এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত যাতায়াত করে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ইরানকে এই প্রণালীতে মাইন বসানো থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে এবং তা অবিলম্বে অপসারণ না করে, তবে তেহরানকে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সাথে পরিচিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান জলপথে বিস্ফোরক স্থাপন শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তেহরানে দুই দফা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে, তবে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসরাইলি শহর এবং এই অঞ্চলের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ: উখিয়ার ক্যাম্পে আশ্রয়

হুমকি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতিতে নারাজ ইরান, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তাপ

আপডেট সময় : ০৩:০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে দেশটি। কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি বৃদ্ধির মধ্যেই এমন অনড় মনোভাব দেখাচ্ছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যদি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে, তবে উপসাগর থেকে কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানজুড়ে এযাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র ও সুসমন্বিত বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে, যার লক্ষ্য দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। এই ভয়াবহ সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান নতি স্বীকার করতে নারাজ।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, যিনি প্রাক্তন শীর্ষ বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার এবং খামেনির মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি চাইছি না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আক্রমণকারীকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে, যাতে সে শিক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো আমাদের প্রিয় ইরানে হামলার কথা না ভাবতে পারে।”

জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হামলার ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রগামী তেলের এক-চতুর্থাংশ এবং সমস্ত এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত যাতায়াত করে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ইরানকে এই প্রণালীতে মাইন বসানো থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে এবং তা অবিলম্বে অপসারণ না করে, তবে তেহরানকে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সাথে পরিচিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান জলপথে বিস্ফোরক স্থাপন শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তেহরানে দুই দফা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে, তবে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসরাইলি শহর এবং এই অঞ্চলের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে।