ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধানল: সর্বোচ্চ নেতাকে হারিয়েও ইরানের অপ্রতিরোধ্য পাল্টা হামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন তীব্র রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলও ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই তীব্র সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত শনিবার ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। শুরুর মুহূর্তেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই ইরান আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে একপ্রকার মরণপণ লড়াই শুরু করেছে।

সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মুহুর্মুহু আঘাত হানছে। সোমবার সাইপ্রাস, ইসরাইল, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তেহরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেল আবিবের ইহুদিবাদী সরকারের সরকারি কমপ্লেক্স, হাইফা ও পূর্ব জেরুসালেমের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে খাইবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে শত্রু জাহাজ লক্ষ্য করে ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে, যদিও মার্কিন সেনারা সেখানে থাকা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার দাবি করেছে। সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের আরএএফ আক্রোটিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। তেহরানের পক্ষ নিয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরাইলে হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, তারা ইরানের ইসরাইলবিষয়ক গোয়েন্দা উপমন্ত্রী সাঈদ ইয়াহিয়া হামিদি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের প্রধান জালালপুর হোসেনকে হত্যা করেছে। তেহরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়েও হামলা চালানো হয়েছে বলে ইসরাইল জানিয়েছে।

এই সংঘাতের জেরে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইহুদি-আমেরিকান সন্ত্রাসীদের হামলায় দেশটিতে ইতোমধ্যে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন। ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো একজন সেনা নিহত হয়েছে এবং ইসরাইলে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

সংঘর্ষের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ আরামকো তেল শোধনাগারে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। যদিও এগুলো ভূপাতিত করা হয়, তবে ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার কারণে জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফান ও মেসাইদের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

সংঘর্ষের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ পথে যোগাযোগব্যবস্থা একপ্রকার ভেঙে পড়েছে। গত তিনদিনে অন্তত তিন হাজার ৪০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে খামেনি হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ এবং ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা’ সৃষ্টিকারী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, ‘শাসন পরিবর্তন’ নয়। তবে তিনি ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, আমেরিকা তাদের পাশে আছে।

লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক হামলা অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহর ইসরাইলে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেমকে তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে, কাতার দাবি করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী ইরান থেকে আসা দুটি সুখোই এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অবসানে চীন যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, তেহরানে সংঘাতের ফলে একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং সোমবার পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি চীনা নাগরিক ইরান ছেড়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধানল: সর্বোচ্চ নেতাকে হারিয়েও ইরানের অপ্রতিরোধ্য পাল্টা হামলা

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন তীব্র রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলও ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই তীব্র সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত শনিবার ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। শুরুর মুহূর্তেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই ইরান আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে একপ্রকার মরণপণ লড়াই শুরু করেছে।

সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মুহুর্মুহু আঘাত হানছে। সোমবার সাইপ্রাস, ইসরাইল, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তেহরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেল আবিবের ইহুদিবাদী সরকারের সরকারি কমপ্লেক্স, হাইফা ও পূর্ব জেরুসালেমের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে খাইবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে শত্রু জাহাজ লক্ষ্য করে ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে, যদিও মার্কিন সেনারা সেখানে থাকা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার দাবি করেছে। সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের আরএএফ আক্রোটিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। তেহরানের পক্ষ নিয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরাইলে হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, তারা ইরানের ইসরাইলবিষয়ক গোয়েন্দা উপমন্ত্রী সাঈদ ইয়াহিয়া হামিদি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের প্রধান জালালপুর হোসেনকে হত্যা করেছে। তেহরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়েও হামলা চালানো হয়েছে বলে ইসরাইল জানিয়েছে।

এই সংঘাতের জেরে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইহুদি-আমেরিকান সন্ত্রাসীদের হামলায় দেশটিতে ইতোমধ্যে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন। ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো একজন সেনা নিহত হয়েছে এবং ইসরাইলে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

সংঘর্ষের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ আরামকো তেল শোধনাগারে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। যদিও এগুলো ভূপাতিত করা হয়, তবে ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার কারণে জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফান ও মেসাইদের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

সংঘর্ষের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ পথে যোগাযোগব্যবস্থা একপ্রকার ভেঙে পড়েছে। গত তিনদিনে অন্তত তিন হাজার ৪০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে খামেনি হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ এবং ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা’ সৃষ্টিকারী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, ‘শাসন পরিবর্তন’ নয়। তবে তিনি ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, আমেরিকা তাদের পাশে আছে।

লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক হামলা অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহর ইসরাইলে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেমকে তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে, কাতার দাবি করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী ইরান থেকে আসা দুটি সুখোই এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অবসানে চীন যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, তেহরানে সংঘাতের ফলে একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং সোমবার পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি চীনা নাগরিক ইরান ছেড়েছেন।