ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সরাইল বিশ্বরোডে তীব্র জ্বালানি সংকট: হাজারো যানবাহন আটকা, আঞ্চলিক যোগাযোগে অচলাবস্থার শঙ্কা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট। এর ফলে ঢাকা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী হাজার হাজার ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করলেও, তেল না পেয়ে অনেক গাড়ি পাম্প থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে সরাইল বিশ্বরোড এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, একাধিক পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনের চালকরা পাম্পে এসে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। তেল নিতে আসা প্রাইভেট কার চালক হাবিব মিয়া জানান, “সকালে তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে এসেছিলাম, কিন্তু কর্মীরা জানালেন তেল নেই। এখন কোথায় গিয়ে তেল নেবো বুঝতে পারছি না।” আরেক মোটরসাইকেল চালক শিবলু বলেন, “তেলের জন্য পাম্পে এসেছিলাম, কিন্তু শুনছি তেল শেষ। এখন আবার অন্য কোথাও যেতে হবে।”

ফাহাদ পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আলামিন এ বিষয়ে বলেন, “সরবরাহকৃত তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত বিক্রি বন্ধ রয়েছে। নতুন করে তেল সরবরাহ আসলে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।” তিনি আরও জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই তেল শেষ হয়ে গেছে, তবে নতুন করে কবে তেল আসবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। সরাইল বিশ্বরোড এলাকার ভুঁইয়া পাম্পেও একই ধরনের সংকট দেখা গেছে এবং তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরাইল বিশ্বরোড ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এই সড়কটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগ স্থাপন করে। হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চালকরা বলছেন, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সড়কে যান চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে এবং অনেক গাড়ি ইতোমধ্যে তেল সংকটের কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ: উখিয়ার ক্যাম্পে আশ্রয়

সরাইল বিশ্বরোডে তীব্র জ্বালানি সংকট: হাজারো যানবাহন আটকা, আঞ্চলিক যোগাযোগে অচলাবস্থার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট। এর ফলে ঢাকা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী হাজার হাজার ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করলেও, তেল না পেয়ে অনেক গাড়ি পাম্প থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে সরাইল বিশ্বরোড এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, একাধিক পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনের চালকরা পাম্পে এসে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। তেল নিতে আসা প্রাইভেট কার চালক হাবিব মিয়া জানান, “সকালে তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে এসেছিলাম, কিন্তু কর্মীরা জানালেন তেল নেই। এখন কোথায় গিয়ে তেল নেবো বুঝতে পারছি না।” আরেক মোটরসাইকেল চালক শিবলু বলেন, “তেলের জন্য পাম্পে এসেছিলাম, কিন্তু শুনছি তেল শেষ। এখন আবার অন্য কোথাও যেতে হবে।”

ফাহাদ পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আলামিন এ বিষয়ে বলেন, “সরবরাহকৃত তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত বিক্রি বন্ধ রয়েছে। নতুন করে তেল সরবরাহ আসলে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।” তিনি আরও জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই তেল শেষ হয়ে গেছে, তবে নতুন করে কবে তেল আসবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। সরাইল বিশ্বরোড এলাকার ভুঁইয়া পাম্পেও একই ধরনের সংকট দেখা গেছে এবং তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরাইল বিশ্বরোড ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এই সড়কটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগ স্থাপন করে। হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চালকরা বলছেন, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সড়কে যান চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে এবং অনেক গাড়ি ইতোমধ্যে তেল সংকটের কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।