মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার প্রাকৃতিক ও রান্নার গ্যাসের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। এই সরকারি নির্দেশনার ফলে দেশজুড়ে অসংখ্য রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম জনবহুল দেশ ভারত এলএনজির চতুর্থ বৃহত্তম এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। রান্না ও শিল্প-কারখানার কাজে ব্যবহৃত এই বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সিংহভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে দেশটি।
মঙ্গলবার ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় নতুন এই নিয়ম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সুষম বণ্টন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি, পরিবহন খাত এবং এলপিজি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তবে সার কারখানা ও চা শিল্পের মতো অন্যান্য খাতগুলো তাদের চাহিদার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে, যা তাদের ‘কার্যকরী প্রাপ্যতার সাপেক্ষে’ নির্ধারিত হবে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা গ্যাস সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই সিরামিক ও টাইলস-সহ ভারতের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাসের সরবরাহ হ্রাসের মুখে পড়ার কথা জানিয়েছে, যা তাদের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোও তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছে। এর আগে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি আদেশে বাসাবাড়িতে এলপিজির সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 






















