ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট: ৩৫ কিমি দীর্ঘ লাইনে চরম দুর্ভোগে যাত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে এক ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অভিমুখী লেনে দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই দীর্ঘ যানজট হাজার হাজার যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, মহাসড়কের সংস্কার কাজে ধীরগতি এবং শ্রমিকদের একটি অংশের মহাসড়ক অবরোধের কারণেই এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চান্দিনা ডেনিম গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। ‘ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই আন্দোলন শুরু করেন।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে ধীরে ধীরে উভয় দিকে যান চলাচল ব্যাহত হতে থাকে এবং দাউদকান্দি থেকে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত যানজট বেড়ে যায়। একপর্যায়ে দাউদকান্দি, গৌরীপুর, চান্দিনা, নিমসার এবং ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং ব্যক্তিগত গাড়ির এক দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীরা এই ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন যে, রমজানের রোজা রেখে এই প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। অনেকে নির্ধারিত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া সাগর আহমেদ নামের এক যাত্রী জানান, দাউদকান্দি থেকে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের রাস্তা পার হতে তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তিনি বলেন, এমন গরম ও রোজার মাসে এই ভোগান্তি দ্বিগুণ কষ্টের কারণ হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাস চালক আলমগীর হোসেন বলেন, তারা নির্দিষ্ট সময় মেনে গাড়ি চালান এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি কোম্পানির শ্রমিকদের হঠাৎ আন্দোলনের কারণে জনগণের এমন দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমামদের নেতৃত্বে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়ার আহ্বান মসজিদ মিশনের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট: ৩৫ কিমি দীর্ঘ লাইনে চরম দুর্ভোগে যাত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে এক ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অভিমুখী লেনে দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই দীর্ঘ যানজট হাজার হাজার যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, মহাসড়কের সংস্কার কাজে ধীরগতি এবং শ্রমিকদের একটি অংশের মহাসড়ক অবরোধের কারণেই এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চান্দিনা ডেনিম গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। ‘ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই আন্দোলন শুরু করেন।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে ধীরে ধীরে উভয় দিকে যান চলাচল ব্যাহত হতে থাকে এবং দাউদকান্দি থেকে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত যানজট বেড়ে যায়। একপর্যায়ে দাউদকান্দি, গৌরীপুর, চান্দিনা, নিমসার এবং ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং ব্যক্তিগত গাড়ির এক দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীরা এই ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন যে, রমজানের রোজা রেখে এই প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। অনেকে নির্ধারিত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া সাগর আহমেদ নামের এক যাত্রী জানান, দাউদকান্দি থেকে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের রাস্তা পার হতে তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তিনি বলেন, এমন গরম ও রোজার মাসে এই ভোগান্তি দ্বিগুণ কষ্টের কারণ হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাস চালক আলমগীর হোসেন বলেন, তারা নির্দিষ্ট সময় মেনে গাড়ি চালান এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি কোম্পানির শ্রমিকদের হঠাৎ আন্দোলনের কারণে জনগণের এমন দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।