ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের নতুন কৌশল: চীনকে রুখতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্ব যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে সরগরম, ঠিক তখনই চীন এমন এক কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা ওয়াশিংটনকে ভাবিয়ে তুলেছে। দেশটি এমন এক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যা আগামী দশকগুলোতে বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

গত ৫ মার্চ চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে ১৪১ পৃষ্ঠার ‘১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ উন্মোচন করা হয়। এই উচ্চাভিলাষী রূপরেখায় পরবর্তী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি নির্ধারণকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, কাঁচামাল এবং শিল্পখাতগুলোর ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিনিয়োগ বিষয়ক বিশ্লেষক ও লেখক শানাকা আনসেলম পেরেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘কেউ এদিকে নজর দিচ্ছে না। আর এটাই হলো আসল বিষয়।’ তিনি মনে করেন, চীনের এই পরিকল্পনা কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক নীতি নয়, বরং এটি একটি জাতীয় প্রযুক্তিগত গতিশীলতা।

পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বেইজিং স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী দশ বছরের মধ্যে তারা তাদের অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই-কে একীভূত করতে চায়। এছাড়াও, হিউম্যানয়েড রোবটিক্সকে একটি ‘স্তম্ভ শিল্প’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে এর উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীন মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় গতি আনা এবং ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছে। অর্থনৈতিকভাবেও চীন বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে এআই সংশ্লিষ্ট শিল্পের মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এই বিশাল উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদী সামরিক সুবিধার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত জাতীয় প্রয়াস বলে মনে হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমামদের নেতৃত্বে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়ার আহ্বান মসজিদ মিশনের

সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের নতুন কৌশল: চীনকে রুখতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র?

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে সরগরম, ঠিক তখনই চীন এমন এক কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা ওয়াশিংটনকে ভাবিয়ে তুলেছে। দেশটি এমন এক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যা আগামী দশকগুলোতে বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

গত ৫ মার্চ চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে ১৪১ পৃষ্ঠার ‘১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ উন্মোচন করা হয়। এই উচ্চাভিলাষী রূপরেখায় পরবর্তী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি নির্ধারণকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, কাঁচামাল এবং শিল্পখাতগুলোর ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিনিয়োগ বিষয়ক বিশ্লেষক ও লেখক শানাকা আনসেলম পেরেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘কেউ এদিকে নজর দিচ্ছে না। আর এটাই হলো আসল বিষয়।’ তিনি মনে করেন, চীনের এই পরিকল্পনা কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক নীতি নয়, বরং এটি একটি জাতীয় প্রযুক্তিগত গতিশীলতা।

পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বেইজিং স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী দশ বছরের মধ্যে তারা তাদের অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই-কে একীভূত করতে চায়। এছাড়াও, হিউম্যানয়েড রোবটিক্সকে একটি ‘স্তম্ভ শিল্প’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে এর উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীন মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় গতি আনা এবং ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছে। অর্থনৈতিকভাবেও চীন বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে এআই সংশ্লিষ্ট শিল্পের মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এই বিশাল উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদী সামরিক সুবিধার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত জাতীয় প্রয়াস বলে মনে হচ্ছে।