পরিবারের নারী প্রধানদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে বাংলাদেশ সরকার যে ‘পরিবার কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে, সেখানে মোবাইল আর্থিক সেবা ‘নগদ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুবিধাভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই পরিবার কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ৬ হাজার ৪৫১টি পরিবার ‘নগদ’-এর মাধ্যমে মোট এক কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার ২৬৫ টাকা পেয়েছে। কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন। সরকারের এই অগ্রাধিকার প্রকল্পের অর্থ বিতরণের জন্য ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ-কে বেছে নেওয়ায় নগদ কর্তৃপক্ষ সরকার এবং বিশেষভাবে সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
নগদের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সাধারণ জনগণের কাছে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের যে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, সেটি আমাদের মুগ্ধ করেছে। সরকারের এমন একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অংশীদার হতে পেরে আমরা গোটা নগদ পরিবার সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সরকারের নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুত এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই অর্থ বিতরণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ করা হয় এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























