ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জে স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজ স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী ইসরাত জাহান ইমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। এই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হামিদুল ইসলাম দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরাত জাহান ইমা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের নুর নবী আকন্দের মেয়ে।

মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কল্যাণী পূর্ব পাড়া গ্রামের এস.এম সায়েমের সঙ্গে ইসরাত জাহান ইমার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই সায়েম সিলেটের পূবালী ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। সায়েমের অনুপস্থিতিতে ইসরাত জাহান ইমা প্রতিবেশী শাহাদতসহ একাধিক পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন, যা নিয়ে সায়েমের সঙ্গে ইমার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়।

২০২২ সালের ৮ জুলাই এস.এম সায়েম ঈদুল আযহা পালনের জন্য বাড়িতে আসেন। বিকেলে সায়েম গোসল করে ঘরে ফিরলে স্ত্রী ইমা তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খেতে দেন। এতে সায়েম ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে ইমা সেভেন আপের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সবাইকে খাইয়ে দেন, ফলে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের কোনো এক সময় ইসরাত জাহান ইমা ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিন ব্যক্তির সহযোগিতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এস.এম সায়েমকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা শেখ ফরিদ বাদী হয়ে পুত্রবধূ ইসরাত জাহান ইমার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা দুই-তিন জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ ইসরাত জাহান ইমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমামদের নেতৃত্বে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়ার আহ্বান মসজিদ মিশনের

সিরাজগঞ্জে স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৯:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজ স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী ইসরাত জাহান ইমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। এই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হামিদুল ইসলাম দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরাত জাহান ইমা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের নুর নবী আকন্দের মেয়ে।

মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কল্যাণী পূর্ব পাড়া গ্রামের এস.এম সায়েমের সঙ্গে ইসরাত জাহান ইমার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই সায়েম সিলেটের পূবালী ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। সায়েমের অনুপস্থিতিতে ইসরাত জাহান ইমা প্রতিবেশী শাহাদতসহ একাধিক পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন, যা নিয়ে সায়েমের সঙ্গে ইমার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়।

২০২২ সালের ৮ জুলাই এস.এম সায়েম ঈদুল আযহা পালনের জন্য বাড়িতে আসেন। বিকেলে সায়েম গোসল করে ঘরে ফিরলে স্ত্রী ইমা তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খেতে দেন। এতে সায়েম ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে ইমা সেভেন আপের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সবাইকে খাইয়ে দেন, ফলে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের কোনো এক সময় ইসরাত জাহান ইমা ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিন ব্যক্তির সহযোগিতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এস.এম সায়েমকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা শেখ ফরিদ বাদী হয়ে পুত্রবধূ ইসরাত জাহান ইমার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা দুই-তিন জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ ইসরাত জাহান ইমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।