ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

জাহাজ বাড়ি হত্যা মামলা: হাসিনা-কামালসহ ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৬ এপ্রিল

রাজধানীর মিরপুরের জাহাজ বাড়িতে ২০১৬ সালে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ প্রদান করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক (অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ৮ মার্চের মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে আসামিরা হাজির না হওয়ায়, তাদের পলাতক বিবেচনা করে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট) প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, কৃষ্ণপদ রায় এবং আব্দুল বাতেন।

গত ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

মামলার বিবরণী অনুসারে, মাদ্রাসার ছাত্র এবং ইসলামী ভাবাপন্ন তরুণ মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ, রায়হান, মতিউর রহমান, জুবায়ের হোসেন, সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক, তাজ উল হক ওরফে রাশিক, আবু হাকিম ওরফে নাঈম, আকিফুজ্জামান খান, রকিবুল হাসান এবং আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেআইনিভাবে আটক ও অপহরণ করে ঢাকা মহানগরীর গোয়েন্দা বিভাগের হাজতখানা, সিটিটিসির গোপন বন্দিশালাসহ বিভিন্ন স্থানে গুম করে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে, উল্লিখিত আট আসামির ষড়যন্ত্র, নির্দেশনা এবং প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত ভবনের পাঁচ তলায় তাদের আটক রাখা হয়। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সোয়াট টিমের মাধ্যমে ৯ তরুণকে জঙ্গি অভিযানের নামে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রকিবুল হাসান নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরে ফ্রান্সের দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন: প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর ঘোষণা

জাহাজ বাড়ি হত্যা মামলা: হাসিনা-কামালসহ ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৬ এপ্রিল

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের জাহাজ বাড়িতে ২০১৬ সালে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ প্রদান করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক (অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ৮ মার্চের মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে আসামিরা হাজির না হওয়ায়, তাদের পলাতক বিবেচনা করে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট) প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, কৃষ্ণপদ রায় এবং আব্দুল বাতেন।

গত ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

মামলার বিবরণী অনুসারে, মাদ্রাসার ছাত্র এবং ইসলামী ভাবাপন্ন তরুণ মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ, রায়হান, মতিউর রহমান, জুবায়ের হোসেন, সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক, তাজ উল হক ওরফে রাশিক, আবু হাকিম ওরফে নাঈম, আকিফুজ্জামান খান, রকিবুল হাসান এবং আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেআইনিভাবে আটক ও অপহরণ করে ঢাকা মহানগরীর গোয়েন্দা বিভাগের হাজতখানা, সিটিটিসির গোপন বন্দিশালাসহ বিভিন্ন স্থানে গুম করে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে, উল্লিখিত আট আসামির ষড়যন্ত্র, নির্দেশনা এবং প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত ভবনের পাঁচ তলায় তাদের আটক রাখা হয়। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সোয়াট টিমের মাধ্যমে ৯ তরুণকে জঙ্গি অভিযানের নামে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রকিবুল হাসান নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।