বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশু গৃহকর্মীকে অবশেষে তার বাবা গোলাম মোস্তফার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইন কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রিংকি শিশুটির সুরক্ষার স্বার্থে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তরের এই আদেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, তার মেয়ে প্রায় এক মাস দশ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিমানের সাবেক এমডির বাসায় থাকাকালীন নিয়মিত চুল ধরে টানার কারণে মেয়েটির ডান চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং ডান পায়েও এখনো ব্যথা রয়েছে। তার আরও চিকিৎসার প্রয়োজন। গোলাম মোস্তফা বলেন, যদিও মেয়েটি এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে, তবুও সে এখনো আতঙ্কগ্রস্ত। ওই বাড়িতে তার উপর হওয়া নির্যাতনের দৃশ্য এখনো তার দুঃস্বপ্নে ফিরে আসে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্তদের সাথে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
এর আগে, এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ২ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুরের পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে আসামি বিথী আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও, বিমানের সাবেক এমডি সফিকুর রহমান কারাগারে ছিলেন। মামলার অভিযোগে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানায় যে তাদের বাসায় একটি ছোট মেয়ে গৃহকর্মী হিসেবে প্রয়োজন। এরপর গত বছরের জুন মাসে মোস্তফা তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন। শেষবার গত বছরের ২ নভেম্বর মোস্তফা তার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ওই বাসায় দেখে আসেন। কিন্তু এরপর আসামিরা মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান যে তার মেয়ে অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফা তার মেয়েকে বুঝে নেন।
রিপোর্টারের নাম 

























