মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:১৮ পূর্বাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ব্যয় সংকোচন ও সেবার মানোন্নয়ন: চট্টগ্রাম বন্দরের মুনাফায় রেকর্ড সাফল্য

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মতো বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর তার আয় ও মুনাফার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৫ সালে রাজস্ব অর্জন ও উদ্বৃত্ত—উভয় ক্ষেত্রেই অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে দেশের এই প্রধান সমুদ্রবন্দর।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা ও রাজস্ব প্রদান

সদ্য সমাপ্ত বছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৩,১৪২.৬৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। একই সময়ে ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১,৮০৪ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সেবার গুণগত মান অটুট রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ফলেই এই সুফল পাওয়া গেছে।

আর্থিক পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্র

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫,৪৬০.১৮ কোটি টাকায়, বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২,৩১৭.৫০ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে বন্দরের ব্যয় গড়ে ৭.৫৯ শতাংশ হারে বাড়লেও মুনাফা বৃদ্ধির হার ছিল নজরকাড়া—প্রায় ১৮.৪২ শতাংশ। সরকারি কোষাগারে জমার পরিমাণও গত বছরের তুলনায় ৫.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা

বন্দরের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ই-বিলিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দর পরিচালনার জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন,

“আমরা সফলভাবে ই-বিলিং এবং অনলাইন এজেন্ট ডেস্ক বাস্তবায়ন করেছি। এর ফলে পেমেন্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে এবং প্রশাসনিক অনেক জটিলতা দূর হয়েছে।”

অংশীজনদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ

বন্দরের এই অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবহারকারীরা কিছু সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম মনে করেন, বন্দরের ট্যারিফ বা সেবামূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি আরও নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ওপর তিনি জোর দেন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বন্দরের সেবাপ্রাপ্তিতে গ্রাহক হয়রানি ও অদৃশ্য খরচ (Unseen Cost) কমানোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, দুর্নীতি রোধ এবং সেবার মান আরও স্বচ্ছ করলে বন্দরের আয় ও সক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৯৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের তামাক আটক

29 October 2026

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: জামিন পেল কিশোর চালক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ব্যয় সংকোচন ও সেবার মানোন্নয়ন: চট্টগ্রাম বন্দরের মুনাফায় রেকর্ড সাফল্য

হালনাগাদ সময় : ১০:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মতো বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর তার আয় ও মুনাফার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৫ সালে রাজস্ব অর্জন ও উদ্বৃত্ত—উভয় ক্ষেত্রেই অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে দেশের এই প্রধান সমুদ্রবন্দর।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা ও রাজস্ব প্রদান

সদ্য সমাপ্ত বছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৩,১৪২.৬৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। একই সময়ে ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১,৮০৪ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সেবার গুণগত মান অটুট রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ফলেই এই সুফল পাওয়া গেছে।

আর্থিক পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্র

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫,৪৬০.১৮ কোটি টাকায়, বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২,৩১৭.৫০ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে বন্দরের ব্যয় গড়ে ৭.৫৯ শতাংশ হারে বাড়লেও মুনাফা বৃদ্ধির হার ছিল নজরকাড়া—প্রায় ১৮.৪২ শতাংশ। সরকারি কোষাগারে জমার পরিমাণও গত বছরের তুলনায় ৫.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা

বন্দরের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ই-বিলিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দর পরিচালনার জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন,

“আমরা সফলভাবে ই-বিলিং এবং অনলাইন এজেন্ট ডেস্ক বাস্তবায়ন করেছি। এর ফলে পেমেন্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে এবং প্রশাসনিক অনেক জটিলতা দূর হয়েছে।”

অংশীজনদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ

বন্দরের এই অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবহারকারীরা কিছু সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম মনে করেন, বন্দরের ট্যারিফ বা সেবামূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি আরও নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ওপর তিনি জোর দেন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বন্দরের সেবাপ্রাপ্তিতে গ্রাহক হয়রানি ও অদৃশ্য খরচ (Unseen Cost) কমানোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, দুর্নীতি রোধ এবং সেবার মান আরও স্বচ্ছ করলে বন্দরের আয় ও সক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Share this news as a Photo Card