ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৫ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই নতুন দিন ধার্য করেন।

এদিন আদালতে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ছয় আসামি। একইসাথে আসামি আল মারুফ ও মাকসুদুর রহমানের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে সময় চেয়ে আবেদন করেন।

এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানিতে কারাগারে থাকা ৩২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে বেলা ২টায় শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করতে চাইলে আসামিপক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন ওই দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ২ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত বিচরের জন্য মামলাটি ওই আদালতে বদলি আদেশ দেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং অভিযোগ গঠনের পর্যায় থেকে মামলাটি বদলি করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত ১৪ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং গত ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৫ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই নতুন দিন ধার্য করেন।

এদিন আদালতে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ছয় আসামি। একইসাথে আসামি আল মারুফ ও মাকসুদুর রহমানের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে সময় চেয়ে আবেদন করেন।

এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানিতে কারাগারে থাকা ৩২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে বেলা ২টায় শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করতে চাইলে আসামিপক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন ওই দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ২ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত বিচরের জন্য মামলাটি ওই আদালতে বদলি আদেশ দেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং অভিযোগ গঠনের পর্যায় থেকে মামলাটি বদলি করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত ১৪ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং গত ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।