ইসলাম একটি স্বাভাবিক ধর্ম, যা মানুষের প্রাকৃতিক স্বভাবের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন প্রকৃতি তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফুলে-ফলে ভরে ওঠে, তেমনি ইসলামও এক স্বাভাবিক পরিবেশে সতেজভাবে বৃদ্ধি পায়। একটি চারাগাছ যেমন স্বাভাবিক পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, তেমনি ইসলামের বৃদ্ধিও পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। যদি পরিবেশে কুফর, শিরক বা বিদআত এর মতো উপদ্রব থাকে, তবে ইসলাম তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধাগ্রস্ত হয়। মুসলিমদের জন্য তাই এমন একটি পরিবেশের প্রয়োজন যেখানে শান্তি ও সুস্থিরতা বজায় থাকে।
ইসলামের বৃদ্ধির জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদাইবিয়ার সন্ধি মেনে নিয়েছিলেন, যা এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। এর ফলস্বরূপ ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করেছিল। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় যেখানে ১,৫০০ সাহাবি উপস্থিত ছিলেন, দুই বছরের মধ্যে তা ১০,০০০ ছাড়িয়ে যায়। মক্কা বিজয়ের পর, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইসলামের প্রসার আরও বৃদ্ধি পায়। দশম হিজরির বিদায় হজে ১,২৫,০০০ সাহাবি উপস্থিত ছিলেন।
ইসলাম সবসময় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য চেষ্টা করেছে। হিজরতের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন গোত্রের কাছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মদিনায় আসেন যখন মদিনার আনসাররা এই পরিবেশের নিশ্চয়তা দেয়। ইসলামের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিবেশ গঠন করা যেখানে ইসলাম নিজস্ব নিয়ম-কানুন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
ইসলাম জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন, যা শুধু তত্ত্বগত নয়, বরং এটি বাস্তবায়নযোগ্য। ইসলাম হলো বিশ্বাস, আমল, চরিত্র, নৈতিকতা, আবেগ এবং সচেতনতার মিশ্রণ। এটি মানুষের জীবনকে নতুন রঙে রাঙায় এবং তার চলার পথে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
ইসলামের আদর্শ সব দিক থেকেই অনুভূতিশীল এবং স্পর্শকাতর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন, তাঁর আদর্শ, হেদায়েত, চরিত্র, নৈতিকতা এবং আবেগ থেকে ইসলামের প্রতিটি অংশ অনুপ্রাণিত হয়। ইসলাম একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে ঈমান একটি পবিত্র বৃক্ষের মতো সতেজ ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।
তবে ইসলামের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কুফরি, শিরকি এবং অগণিত অপপ্রচার। এসব শক্তি ইসলামের পথ রুদ্ধ করতে চেয়েছে, কিন্তু আল্লাহর কৃপায় ইসলামের আলো কখনো বন্ধ হয়নি। আল্লাহ তার জ্যোতির্ময় আলোকে পৃথিবীজুড়ে পূর্ণতা দিতে চান, এবং কোনো শক্তি তা থামাতে পারে না।
রিপোর্টারের নাম 

























