জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিবহন ভোগান্তি ও যাতায়াত সমস্যা নিরসনে চালু হয়েছে অত্যাধুনিক বাস ট্র্যাকার অ্যাপ ‘জবি এক্সপ্রেস’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর উদ্যোগে তৈরি এই অ্যাপের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা বাসের রিয়েল-টাইম অবস্থান জেনে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন।
গত বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জকসু কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাপটির শুভ সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাসের অবস্থান ও সময়সূচি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ভোরে বাসের জন্য রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করাটা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, যা প্রায়শই নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও ছিনতাইয়ের মতো অবাঞ্ছিত ঘটনার জন্ম দিতো। এসব সমস্যা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় জকসুর এই উদ্যোগ।’ তিনি আরও জানান, এই অ্যাপ শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গুগল ম্যাপের অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে অ্যাপটি চালু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর এটি এখন গুগল প্লে-স্টোরে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আসন্ন ঈদের আগে বা পরে এটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও, ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ‘জবি এক্সপ্রেস’ নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যেখান থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।
অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে রিয়াজুল ইসলাম জানান, বাস চলাচলের সময় চালক বা সহকারী অ্যাপটি চালু করে তাদের লোকেশন অন রাখবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্মার্টফোনে রিয়েল-টাইমে বাসের বর্তমান অবস্থান দেখতে পাবেন। বাস পার্কিংয়ে থাকলে বা সার্ভিসে না থাকলে লোকেশন বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালক ও সহকারীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাপটির উদ্বোধনকালে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসানসহ জকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















