ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## নবম তারাবি: কোরআনের নির্ভুল বার্তা ও নবীদের শিক্ষামূলক উপাখ্যান

ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজের মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াতের যে অমোঘ ধারা প্রবাহিত হয়, তা মুসল্লিদের জন্য এক বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুভূতি বয়ে আনে। আজ নবম তারাবিতে তেলাওয়াত করা হবে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফের প্রথম ৫২ আয়াত। এই অংশটুকু পবিত্র কোরআনের ১২তম পারার অন্তর্ভুক্ত। আজকের তেলাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো কোরআনের অকাট্য নির্ভুলতা, ঐশী বাণীর সত্যতা এবং অতীতের নবী-রাসুলদের জীবন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় উপাখ্যান।

সূরা হুদ: কোরআনের মহত্ত্ব ও তাওহিদের আহ্বান

সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৩) শুরু হয় কোরআনের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিয়ে। এই সূরা জোর দিয়ে বলে যে, পবিত্র কোরআন শব্দ, ভাষা, অর্থ—সর্বদিক দিয়েই নির্ভুল এবং এটি ধ্রুব সত্য। এর বর্ণনায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো কিছুই অযৌক্তিক বা বাস্তবতাবিরোধী নয়। কোরআনের অনুপম ভাষা, সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতা প্রশ্নাতীত। এই ঐশী গ্রন্থ শুধু বর্তমানের জন্য নয়, বরং কেয়ামত পর্যন্ত এর সার্থকতা, উপাদেয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

কোরআনের মহত্ত্ব বর্ণনার পর সূরাটি তাওহিদের দাওয়াত দেয় এবং আল্লাহর একত্ববাদের সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করে। যারা কোরআনকে মানব রচিত বলে অপবাদ দেয়, তাদের কোরআনের অনুরূপ কিছু রচনা করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। তবে, কাফেররা কখনোই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস দেখাতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। সূরাটিতে কাফেরদের অন্ধ ও বধিরদের সাথে এবং ঈমানদারদের চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে।

কোরআনের সত্যতা, তাওহিদ ও রিসালতের বাস্তবতার প্রমাণ উপস্থাপনের পর এই সূরায় হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.)-এর জীবনকাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ ওহির সত্যতা এবং কোরআনের চিরন্তন সত্যতা প্রমাণ করা। হজরত নুহ (আ.)-এর ঘটনার পর বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদ, যা আল্লাহ ওহির মাধ্যমে নবীকে জানাচ্ছেন, যা পূর্বে তিনি বা তার জাতি জানত না। এই প্রসঙ্গে সবর ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

নবীদের ঘটনাগুলো বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য অসংখ্য উপদেশ বহন করে এবং নবীজি (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের জন্য সান্ত্বনা ও দৃঢ়তার শিক্ষা দেয়। তাই, ঘটনাগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে নবীজি ও তাঁর উম্মতকে দ্বীনের উপর স্থির থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। “ইস্তেকামাত” বা অবিচলতা—যা বিশ্বাস, কথা, কাজ ও চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত—তাকেই আসল কারামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা প্রসঙ্গে গোনাহ ও নাফরমানি সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হয়তো তাৎক্ষণিক শাস্তি দেন না, কিন্তু ছাড় দেন না। জাতীয় জীবনে বিপর্যয় এবং আল্লাহর আজাব নেমে আসার কারণ হিসেবে গোনাহ, সীমাতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং মন্দ কাজে বাধা না দেওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূরা ইউসুফ: সবচেয়ে সুন্দর উপাখ্যানের শিক্ষা

সূরা ইউসুফ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১১), যার নামেই এর মূল বিষয়বস্তু স্পষ্ট—হজরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবনকাহিনী। কোরআন নিজেই এই ঘটনাকে ‘আহসানুল কাসাস’ বা সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই ঘটনাটি প্রচুর শিক্ষা ও নসিহত ধারণ করে।

হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বারো সন্তানের মধ্যে ইউসুফ (আ.) ছিলেন অসাধারণ রূপ লাবণ্যের অধিকারী। বাহ্যিক সৌন্দর্য ছাড়াও তার আচরণ ছিল অনন্য, যা তাকে বাবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল। এর একটি কারণ ছিল ইউসুফ (আ.)-এর শৈশবে দেখা এক বিস্ময়কর স্বপ্ন, যা তার নবী হওয়ার পূর্বাভাস ছিল। ইউসুফ ও তার ছোট ভাই বিনইয়ামিন, যাদের মায়ের ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছিল, তাদের প্রতি বাবার এই বিশেষ স্নেহ অন্য ভাইদের হিংসার উদ্রেক করে। তারা ইউসুফ (আ.)-কে বিনোদনের অজুহাতে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে এক কূপের মধ্যে ফেলে দেয়।

ভাগ্যক্রমে, একটি কাফেলা সেখানে এসে কূপ থেকে ইউসুফ (আ.)-কে উদ্ধার করে এবং মিশরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়। মিশরের আজিজ ইউসুফ (আ.)-কে কিনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বড় হওয়ার পর আজিজের স্ত্রী ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে অন্যায় কাজের প্রতি প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবার নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে ইউসুফ (আ.)-কে জেলে নিক্ষেপ করে। জেলের মধ্যেও তিনি তাওহিদের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং অনেক বন্দি তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন।

একসময় তৎকালীন বাদশাহ একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ (আ.) সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা বাদশাহকে মুগ্ধ করে। এর ফলে বাদশাহ ইউসুফ (আ.)-কে দেশের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে তাকে নিজের উজির নিযুক্ত করেন।

এইভাবে, নবম তারাবিতে পঠিতব্য অংশগুলো একদিকে যেমন কোরআনের ঐশী নির্ভুলতা ও মহত্ত্ব তুলে ধরে, তেমনি অতীতের নবী-রাসুলদের জীবন থেকে আমাদের জন্য ধৈর্য, তাকওয়া, তাওহিদ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষাও প্রদান করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার সংসদে না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## নবম তারাবি: কোরআনের নির্ভুল বার্তা ও নবীদের শিক্ষামূলক উপাখ্যান

ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজের মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াতের যে অমোঘ ধারা প্রবাহিত হয়, তা মুসল্লিদের জন্য এক বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুভূতি বয়ে আনে। আজ নবম তারাবিতে তেলাওয়াত করা হবে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফের প্রথম ৫২ আয়াত। এই অংশটুকু পবিত্র কোরআনের ১২তম পারার অন্তর্ভুক্ত। আজকের তেলাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো কোরআনের অকাট্য নির্ভুলতা, ঐশী বাণীর সত্যতা এবং অতীতের নবী-রাসুলদের জীবন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় উপাখ্যান।

সূরা হুদ: কোরআনের মহত্ত্ব ও তাওহিদের আহ্বান

সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৩) শুরু হয় কোরআনের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিয়ে। এই সূরা জোর দিয়ে বলে যে, পবিত্র কোরআন শব্দ, ভাষা, অর্থ—সর্বদিক দিয়েই নির্ভুল এবং এটি ধ্রুব সত্য। এর বর্ণনায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো কিছুই অযৌক্তিক বা বাস্তবতাবিরোধী নয়। কোরআনের অনুপম ভাষা, সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতা প্রশ্নাতীত। এই ঐশী গ্রন্থ শুধু বর্তমানের জন্য নয়, বরং কেয়ামত পর্যন্ত এর সার্থকতা, উপাদেয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

কোরআনের মহত্ত্ব বর্ণনার পর সূরাটি তাওহিদের দাওয়াত দেয় এবং আল্লাহর একত্ববাদের সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করে। যারা কোরআনকে মানব রচিত বলে অপবাদ দেয়, তাদের কোরআনের অনুরূপ কিছু রচনা করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। তবে, কাফেররা কখনোই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস দেখাতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। সূরাটিতে কাফেরদের অন্ধ ও বধিরদের সাথে এবং ঈমানদারদের চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে।

কোরআনের সত্যতা, তাওহিদ ও রিসালতের বাস্তবতার প্রমাণ উপস্থাপনের পর এই সূরায় হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.)-এর জীবনকাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ ওহির সত্যতা এবং কোরআনের চিরন্তন সত্যতা প্রমাণ করা। হজরত নুহ (আ.)-এর ঘটনার পর বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদ, যা আল্লাহ ওহির মাধ্যমে নবীকে জানাচ্ছেন, যা পূর্বে তিনি বা তার জাতি জানত না। এই প্রসঙ্গে সবর ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

নবীদের ঘটনাগুলো বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য অসংখ্য উপদেশ বহন করে এবং নবীজি (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের জন্য সান্ত্বনা ও দৃঢ়তার শিক্ষা দেয়। তাই, ঘটনাগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে নবীজি ও তাঁর উম্মতকে দ্বীনের উপর স্থির থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। “ইস্তেকামাত” বা অবিচলতা—যা বিশ্বাস, কথা, কাজ ও চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত—তাকেই আসল কারামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা প্রসঙ্গে গোনাহ ও নাফরমানি সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হয়তো তাৎক্ষণিক শাস্তি দেন না, কিন্তু ছাড় দেন না। জাতীয় জীবনে বিপর্যয় এবং আল্লাহর আজাব নেমে আসার কারণ হিসেবে গোনাহ, সীমাতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং মন্দ কাজে বাধা না দেওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূরা ইউসুফ: সবচেয়ে সুন্দর উপাখ্যানের শিক্ষা

সূরা ইউসুফ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১১), যার নামেই এর মূল বিষয়বস্তু স্পষ্ট—হজরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবনকাহিনী। কোরআন নিজেই এই ঘটনাকে ‘আহসানুল কাসাস’ বা সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই ঘটনাটি প্রচুর শিক্ষা ও নসিহত ধারণ করে।

হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বারো সন্তানের মধ্যে ইউসুফ (আ.) ছিলেন অসাধারণ রূপ লাবণ্যের অধিকারী। বাহ্যিক সৌন্দর্য ছাড়াও তার আচরণ ছিল অনন্য, যা তাকে বাবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল। এর একটি কারণ ছিল ইউসুফ (আ.)-এর শৈশবে দেখা এক বিস্ময়কর স্বপ্ন, যা তার নবী হওয়ার পূর্বাভাস ছিল। ইউসুফ ও তার ছোট ভাই বিনইয়ামিন, যাদের মায়ের ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছিল, তাদের প্রতি বাবার এই বিশেষ স্নেহ অন্য ভাইদের হিংসার উদ্রেক করে। তারা ইউসুফ (আ.)-কে বিনোদনের অজুহাতে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে এক কূপের মধ্যে ফেলে দেয়।

ভাগ্যক্রমে, একটি কাফেলা সেখানে এসে কূপ থেকে ইউসুফ (আ.)-কে উদ্ধার করে এবং মিশরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়। মিশরের আজিজ ইউসুফ (আ.)-কে কিনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বড় হওয়ার পর আজিজের স্ত্রী ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে অন্যায় কাজের প্রতি প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবার নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে ইউসুফ (আ.)-কে জেলে নিক্ষেপ করে। জেলের মধ্যেও তিনি তাওহিদের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং অনেক বন্দি তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন।

একসময় তৎকালীন বাদশাহ একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ (আ.) সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা বাদশাহকে মুগ্ধ করে। এর ফলে বাদশাহ ইউসুফ (আ.)-কে দেশের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে তাকে নিজের উজির নিযুক্ত করেন।

এইভাবে, নবম তারাবিতে পঠিতব্য অংশগুলো একদিকে যেমন কোরআনের ঐশী নির্ভুলতা ও মহত্ত্ব তুলে ধরে, তেমনি অতীতের নবী-রাসুলদের জীবন থেকে আমাদের জন্য ধৈর্য, তাকওয়া, তাওহিদ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষাও প্রদান করে।