ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অষ্টম তারাবিতে সূরা তওবা ও ইউনুস: সত্য, ত্যাগ ও হেদায়েতের বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রমজানের পবিত্র রাতে আজ পালিত হচ্ছে অষ্টম তারাবি। এ রাতে তেলাওয়াত করা হবে কুরআনের ১১তম পারা, যার অন্তর্ভুক্ত সূরা তওবার ৯৪ থেকে ১৯৩ নম্বর আয়াত এবং সম্পূর্ণ সূরা ইউনুস। এই দুই সূরায় মুনাফিকদের কপটতা, মুমিনদের সত্যনিষ্ঠা ও ত্যাগের মহিমা, আল্লাহর একত্ববাদ এবং হেদায়েতের পথে অবিচল থাকার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সত্যের জয়, তওবার মাধ্যমে মুক্তি এবং আল্লাহর অসীম কুদরত ও রহমতের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত আজকের তারাবির মূল প্রতিপাদ্য।

সূরা তওবা (৯৪-১৯৩): কপটতার নিন্দা ও সত্যের পুরস্কার
আজকের তারাবিতে পঠিত সূরা তওবার এই অংশে প্রধানত মুনাফিকদের চরিত্র এবং খাঁটি মুমিনদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মুনাফিকদের কপটতা সম্পর্কে অবহিত করেন। মদিনায় ফিরে তারা মিথ্যা অজুহাত ও কসমের মাধ্যমে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে, যা তাদের অন্তরের ব্যাধি ও দ্বিমুখী চরিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।

এর বিপরীতে, তিন জন খাঁটি ঈমানদারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অলসতার কারণে যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি। তারা কোনো মিথ্যা অজুহাত না দিয়ে নিজেদের ভুল অকপটে স্বীকার করেন। এর ফলস্বরূপ তাদের পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত বয়কট করে রাখা হলেও, সত্য বলার কারণে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের প্রতি সুসংবাদ অবতীর্ণ হয়। এই ঘটনা সত্যবাদিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

মুনাফিকরা মুসলমানদের ক্ষতিসাধন, কাফেরদের সহযোগিতা এবং মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ‘মসজিদে জিরার’ নির্মাণ করেছিল। আল্লাহ তায়ালা এমন স্থানে অবস্থান করা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এর বিপরীতে, তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত কুবা মসজিদের আলোচনা করে তাকওয়ার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

এরপর সেই মহান মুমিনদের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, যারা জান্নাতের আশায় নিজেদের জানমাল আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেন। তাদের মধ্যে তওবা, ইবাদত, আল্লাহর প্রশংসা, জিহাদ, সিয়াম, রুকু-সিজদা আদায়, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণের মতো গুণাবলী বিদ্যমান। মুশরিকদের জন্য ইস্তেগফার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মুমিনদেরকে তাকওয়া অবলম্বন, মুনাফিকদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, সত্যাশ্রয়ীদের সংস্পর্শ গ্রহণ এবং নবীজির আনুগত্যকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষাংশে জ্ঞান অর্জন ও প্রচারের গুরুত্ব, জিহাদের মূলনীতি এবং নবীজির বিশেষ গুণাবলীর প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।

সূরা ইউনুস: একত্ববাদ, কোরআনের সত্যতা ও হেদায়েতের পথ
মক্কায় অবতীর্ণ ১১৯ আয়াত ও ১১ রুকু বিশিষ্ট সূরা ইউনুসে ঈমানের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস এবং বিশেষত কোরআনুল কারিমের সত্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার শুরুতে বলা হয়েছে, নবী মুহাম্মদের (সা.) নবুওয়ত কোনো নতুন বিষয় নয়। এরপর আল্লাহর ইবাদতের মূল তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে – যিনি প্রতিপালক ও সৃষ্টিকর্তা, কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে।

আল্লাহর কুদরতের অগণিত নিদর্শন দেখা সত্ত্বেও মানুষ বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীতে বিভক্ত। বিশ্বাসীদের জন্য জান্নাত এবং অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নামের বার্তা দেওয়া হয়েছে। মানুষের ত্বরাপ্রবণতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা যেভাবে নিজেদের অমঙ্গল কামনা করে, সেভাবে যদি তাদের প্রার্থনা কবুল হতো, তবে পৃথিবীতে কেউ বাঁচত না।

কোরআন আল্লাহর কালাম, এ কথা কাফেররা মানতে চাইত না এবং নবীজির প্রতি অপবাদ দিত যে, তিনি এটি নিজে তৈরি করেছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে, যিনি চল্লিশ বছর ধরে কোনো মিথ্যা কথা বলেননি, তিনি এই বয়সে এসে কীভাবে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে মিথ্যা বলতে পারেন? তাছাড়া তিনি তো কারো কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেননি বা কাব্যচর্চাও করেননি। এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে এমন অলৌকিক ও অলংকারপূর্ণ বাণী রচনা করতে পারেন? কোরআন যে চিরসত্য ও মহান আল্লাহর কালাম, তা প্রমাণ করতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি এটি মানুষের কথা হয়, তাহলে তোমরাও এর অনুরূপ একটি সূরা তৈরি করে দেখাও।

পরবর্তী আয়াতগুলোতে মুশরিকদের মূর্তিপূজার অসারতা এবং আল্লাহর একত্ববাদের বিভিন্ন দলিল তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, কষ্ট ও দুর্যোগের সময় বড় বড় মুশরিকও মিথ্যা উপাস্যদের ভুলে যায় এবং প্রকৃত উপাস্যকে ডাকতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুহূর্তেই তারা আবার আল্লাহকে ভুলে যায়। অথচ আসমান-জমিন থেকে রিজিকের ফয়সালা, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান, প্রাণহীন থেকে প্রাণপূর্ণ এবং প্রাণপূর্ণ থেকে প্রাণহীন বস্তু বের করা – এসব তো একমাত্র আল্লাহই করেন।

মানুষের অস্বীকারের মূল কারণ হলো অজ্ঞতা। যা সে জানে না বা অনুধাবন করতে পারে না, তা-ই সে অস্বীকার করে বসে। এরপর উপদেশ লাভের জন্য তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে:
১. নূহ (আ.): তিনি দীর্ঘকাল জাতিকে দাওয়াত দেন, কিন্তু হতভাগা জাতি তাঁর কথা না শুনে ধ্বংস হয়ে যায়।
২. মুসা (আ.) ও হারুন (আ.): খোদা হওয়ার দাবিদার ফেরাউনের মোকাবিলায় তাঁদের পাঠানো হয়েছিল।
৩. ইউনুস (আ.): তাঁর নামেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। নিজ কওমের ঈমান আনার বিষয়ে হতাশ হয়ে এবং আল্লাহর আজাব আপতিত হওয়ার নিশ্চিত অবস্থা দেখে তিনি ‘নিনাওয়া’ নামক স্থান ত্যাগ করেন। তবে ইউনুস (আ.) চলে যাওয়ার পর তাঁর কওমের লোকেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তওবা ও ইস্তেগফার করে। ফলস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা তাদের থেকে আজাব উঠিয়ে নেন।

সূরা ইউনুসের শেষ দিকে মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, “এটা আমার নিয়ম, সবশেষে আমি মুমিনদেরকেই মুক্তি দেই।” যেভাবে সূরা ইউনুসের সূচনা হয়েছিল কোরআন হাকিমের আলোচনা দিয়ে, সমাপ্তিও হয়েছে এই সত্য কিতাবের অনুসরণের নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

অষ্টম তারাবিতে সূরা তওবা ও ইউনুস: সত্য, ত্যাগ ও হেদায়েতের বার্তা

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানের পবিত্র রাতে আজ পালিত হচ্ছে অষ্টম তারাবি। এ রাতে তেলাওয়াত করা হবে কুরআনের ১১তম পারা, যার অন্তর্ভুক্ত সূরা তওবার ৯৪ থেকে ১৯৩ নম্বর আয়াত এবং সম্পূর্ণ সূরা ইউনুস। এই দুই সূরায় মুনাফিকদের কপটতা, মুমিনদের সত্যনিষ্ঠা ও ত্যাগের মহিমা, আল্লাহর একত্ববাদ এবং হেদায়েতের পথে অবিচল থাকার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সত্যের জয়, তওবার মাধ্যমে মুক্তি এবং আল্লাহর অসীম কুদরত ও রহমতের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত আজকের তারাবির মূল প্রতিপাদ্য।

সূরা তওবা (৯৪-১৯৩): কপটতার নিন্দা ও সত্যের পুরস্কার
আজকের তারাবিতে পঠিত সূরা তওবার এই অংশে প্রধানত মুনাফিকদের চরিত্র এবং খাঁটি মুমিনদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মুনাফিকদের কপটতা সম্পর্কে অবহিত করেন। মদিনায় ফিরে তারা মিথ্যা অজুহাত ও কসমের মাধ্যমে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে, যা তাদের অন্তরের ব্যাধি ও দ্বিমুখী চরিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।

এর বিপরীতে, তিন জন খাঁটি ঈমানদারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অলসতার কারণে যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি। তারা কোনো মিথ্যা অজুহাত না দিয়ে নিজেদের ভুল অকপটে স্বীকার করেন। এর ফলস্বরূপ তাদের পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত বয়কট করে রাখা হলেও, সত্য বলার কারণে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের প্রতি সুসংবাদ অবতীর্ণ হয়। এই ঘটনা সত্যবাদিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

মুনাফিকরা মুসলমানদের ক্ষতিসাধন, কাফেরদের সহযোগিতা এবং মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ‘মসজিদে জিরার’ নির্মাণ করেছিল। আল্লাহ তায়ালা এমন স্থানে অবস্থান করা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এর বিপরীতে, তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত কুবা মসজিদের আলোচনা করে তাকওয়ার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

এরপর সেই মহান মুমিনদের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, যারা জান্নাতের আশায় নিজেদের জানমাল আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেন। তাদের মধ্যে তওবা, ইবাদত, আল্লাহর প্রশংসা, জিহাদ, সিয়াম, রুকু-সিজদা আদায়, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণের মতো গুণাবলী বিদ্যমান। মুশরিকদের জন্য ইস্তেগফার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মুমিনদেরকে তাকওয়া অবলম্বন, মুনাফিকদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, সত্যাশ্রয়ীদের সংস্পর্শ গ্রহণ এবং নবীজির আনুগত্যকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষাংশে জ্ঞান অর্জন ও প্রচারের গুরুত্ব, জিহাদের মূলনীতি এবং নবীজির বিশেষ গুণাবলীর প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।

সূরা ইউনুস: একত্ববাদ, কোরআনের সত্যতা ও হেদায়েতের পথ
মক্কায় অবতীর্ণ ১১৯ আয়াত ও ১১ রুকু বিশিষ্ট সূরা ইউনুসে ঈমানের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস এবং বিশেষত কোরআনুল কারিমের সত্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার শুরুতে বলা হয়েছে, নবী মুহাম্মদের (সা.) নবুওয়ত কোনো নতুন বিষয় নয়। এরপর আল্লাহর ইবাদতের মূল তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে – যিনি প্রতিপালক ও সৃষ্টিকর্তা, কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে।

আল্লাহর কুদরতের অগণিত নিদর্শন দেখা সত্ত্বেও মানুষ বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীতে বিভক্ত। বিশ্বাসীদের জন্য জান্নাত এবং অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নামের বার্তা দেওয়া হয়েছে। মানুষের ত্বরাপ্রবণতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা যেভাবে নিজেদের অমঙ্গল কামনা করে, সেভাবে যদি তাদের প্রার্থনা কবুল হতো, তবে পৃথিবীতে কেউ বাঁচত না।

কোরআন আল্লাহর কালাম, এ কথা কাফেররা মানতে চাইত না এবং নবীজির প্রতি অপবাদ দিত যে, তিনি এটি নিজে তৈরি করেছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে, যিনি চল্লিশ বছর ধরে কোনো মিথ্যা কথা বলেননি, তিনি এই বয়সে এসে কীভাবে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে মিথ্যা বলতে পারেন? তাছাড়া তিনি তো কারো কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেননি বা কাব্যচর্চাও করেননি। এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে এমন অলৌকিক ও অলংকারপূর্ণ বাণী রচনা করতে পারেন? কোরআন যে চিরসত্য ও মহান আল্লাহর কালাম, তা প্রমাণ করতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি এটি মানুষের কথা হয়, তাহলে তোমরাও এর অনুরূপ একটি সূরা তৈরি করে দেখাও।

পরবর্তী আয়াতগুলোতে মুশরিকদের মূর্তিপূজার অসারতা এবং আল্লাহর একত্ববাদের বিভিন্ন দলিল তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, কষ্ট ও দুর্যোগের সময় বড় বড় মুশরিকও মিথ্যা উপাস্যদের ভুলে যায় এবং প্রকৃত উপাস্যকে ডাকতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুহূর্তেই তারা আবার আল্লাহকে ভুলে যায়। অথচ আসমান-জমিন থেকে রিজিকের ফয়সালা, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান, প্রাণহীন থেকে প্রাণপূর্ণ এবং প্রাণপূর্ণ থেকে প্রাণহীন বস্তু বের করা – এসব তো একমাত্র আল্লাহই করেন।

মানুষের অস্বীকারের মূল কারণ হলো অজ্ঞতা। যা সে জানে না বা অনুধাবন করতে পারে না, তা-ই সে অস্বীকার করে বসে। এরপর উপদেশ লাভের জন্য তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে:
১. নূহ (আ.): তিনি দীর্ঘকাল জাতিকে দাওয়াত দেন, কিন্তু হতভাগা জাতি তাঁর কথা না শুনে ধ্বংস হয়ে যায়।
২. মুসা (আ.) ও হারুন (আ.): খোদা হওয়ার দাবিদার ফেরাউনের মোকাবিলায় তাঁদের পাঠানো হয়েছিল।
৩. ইউনুস (আ.): তাঁর নামেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। নিজ কওমের ঈমান আনার বিষয়ে হতাশ হয়ে এবং আল্লাহর আজাব আপতিত হওয়ার নিশ্চিত অবস্থা দেখে তিনি ‘নিনাওয়া’ নামক স্থান ত্যাগ করেন। তবে ইউনুস (আ.) চলে যাওয়ার পর তাঁর কওমের লোকেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তওবা ও ইস্তেগফার করে। ফলস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা তাদের থেকে আজাব উঠিয়ে নেন।

সূরা ইউনুসের শেষ দিকে মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, “এটা আমার নিয়ম, সবশেষে আমি মুমিনদেরকেই মুক্তি দেই।” যেভাবে সূরা ইউনুসের সূচনা হয়েছিল কোরআন হাকিমের আলোচনা দিয়ে, সমাপ্তিও হয়েছে এই সত্য কিতাবের অনুসরণের নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে।