জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলের মঞ্চে অনুষ্ঠান শেষে ব্যঙ্গাত্মক কাওয়ালি পরিবেশনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিম আহমেদ। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত এই শিক্ষার্থী নেতার এমন কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে, যার জেরে ভিডিওটি সরিয়ে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ‘অটুট বন্ধনে জবিয়ানদের ইফতার’ শীর্ষক আয়োজনটি শেষ হওয়ার পর মঞ্চেই এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। ‘অটুট কাওয়ালি’ শিরোনামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদসহ কয়েকজন ছেলে এবং মাঝে একজন মেয়েকে কাওয়ালির ভঙ্গিমায় হাত মেলাতে। যদিও ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীদের কেউই ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিবির এমন কোনো কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি। তাকরিম প্রাথমিকভাবে এটিকে স্রেফ মজার ছলে করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
ভিডিওটি দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ওয়াইসুল নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখেন, “ইফতার মাহফিলে মাঝখানে একটা মেয়েকে নিয়ে এরকম রং তামাশা শিবিরের অনুমতি ছাড়া অসম্ভব। এরকম হারাম করতে চাইলে আলাদা করে প্রোগ্রাম করুন। ইফতার মাহফিলের নামে শয়তানি বন্ধ করুন।” ফকরউদ্দীন নামে আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “শিবিরের কাছে এটা আশা করিনি কখনো। কাওয়ালি পর্যন্ত মানা যায়, কিন্তু একটা মেয়েকে ৬ জন ছেলের মাঝখানে বসিয়ে…”
এই বিষয়ে জবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ফেসবুকে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কাওয়ালি করা বা গান গাওয়াটা কোনো সমস্যা না, কিন্তু শিবিরের ব্যানারসহ যখন করবে তখন সেটা প্রবলেম্যাটিক। অনলাইনে মানুষ এটাকে ভিন্নভাবে নিচ্ছে, সেটাকে কীভাবে ডিল করবো?” জবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির ইফতার অনুষ্ঠানের মঞ্চে কাওয়ালি বা অন্য কোনো প্রোগ্রাম রাখেনি। যারা করেছেন, তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে করেছেন।”
ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছেন তাকরিম আহমেদ। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসের চারদিকে লাইটিং দেখে বন্ধুবান্ধব মিলে একটা ভিডিও বানাই। অতকিছু ভেবে কোনো ভিডিও করি নাই। ভিডিওটি নিয়ে নানান কথা উঠছে, যা দুঃখজনক। আমি জেনেশুনে কাউকে খারাপ বানানোর ইজারা নেই। আমার অনিচ্ছাকৃত ব্যাপারটির জন্যে কিছু ভাই কষ্ট পেয়েছেন। আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করি আমাকে বিনা শর্তে ক্ষমা করবেন।” তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 






















