ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্যস্ত জীবনেও নেকি অর্জনের সহজ পাথেয়: জিকিরে সজীব হোক রোজাদারের সময়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানে প্রতিটি মুমিন মুসলমানের আকাঙ্ক্ষা থাকে অধিক সওয়াব হাসিলের। রোজা পালন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও সদকার মাধ্যমে আমরা এই পবিত্র মাসটিকে সাজাতে সচেষ্ট হই। তবে আধুনিক নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের চাপে অনেকের পক্ষেই নফল ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের জন্য দীর্ঘ সময় ইবাদতে মশগুল থাকা যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে ‘জিকির’ হতে পারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম।

জিকির শব্দের আভিধানিক অর্থ স্মরণ করা। স্রষ্টার স্মরণে জিকির করার জন্য কোনো বিশেষ স্থান বা সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। দাঁড়ানো, বসা কিংবা শোয়া—যেকোনো অবস্থায় এমনকি ওজুবিহীন অবস্থায়ও আল্লাহর জিকির করা সম্ভব। ইবাদতের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে জিকিরই হলো সহজতম। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে মহান আল্লাহ জিকিরের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। সুরা আরাফের ২০৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে মনে মনে বিনয় ও ভয়ের সঙ্গে স্মরণ করো এবং অনুচ্চস্বরে সকালে ও সন্ধ্যায় জিকির করো; তোমরা গাফেল বা বেখবর হয়ো না।’ অন্য এক স্থানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেন তারা তাঁকে ডাকে, আর তিনি তাতে সাড়া দেবেন।

জিকিরের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক চমৎকার উপমা দিয়েছেন। বুখারি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিকিরকারী ও জিকিরবিমুখ ব্যক্তির তুলনা হলো জীবিত ও মৃতের মতো। অর্থাৎ জিকিরের মাধ্যমেই মুমিনের অন্তর জীবিত থাকে। তিরমিজি শরিফের এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জিকির এমন এক আমল যা স্বর্ণ-রুপা দান কিংবা শত্রুর মোকাবিলা করার চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে অধিক মর্যাদাকর ও পবিত্র।

দৈনন্দিন জীবনে জিকিরের অভ্যাস গড়া অত্যন্ত সহজ। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর রাসুল (সা.) নির্দেশিত দোয়া ও জিকিরগুলো পাঠ করা যেতে পারে। যেমন—প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করলে জান্নাতের পথ সুগম হয়। এছাড়া ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠের মাধ্যমে অতীতের পাপ মোচনের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে। সকালে ও সন্ধ্যায় ১০ বার করে দরুদ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন রাসুল (সা.)-এর সুপারিশ পাওয়া নিশ্চিত হয়। এছাড়া সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠের ফজিলতও অপরিসীম।

পরিশেষে, রমজানের এই মূল্যবান সময়গুলোকে হেলায় না হারিয়ে আমাদের প্রত্যেকের উচিত জিকিরের মাধ্যমে জিহ্বাকে সজীব রাখা। কর্মজীবী ব্যক্তিরা কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে কিংবা গৃহিণীরা সাংসারিক কাজের ফাঁকে অনায়াসেই তাসবিহ পাঠ করতে পারেন। অল্প পরিশ্রমে অধিক সওয়াব অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রমজানকে আরও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমীন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

ব্যস্ত জীবনেও নেকি অর্জনের সহজ পাথেয়: জিকিরে সজীব হোক রোজাদারের সময়

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানে প্রতিটি মুমিন মুসলমানের আকাঙ্ক্ষা থাকে অধিক সওয়াব হাসিলের। রোজা পালন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও সদকার মাধ্যমে আমরা এই পবিত্র মাসটিকে সাজাতে সচেষ্ট হই। তবে আধুনিক নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের চাপে অনেকের পক্ষেই নফল ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের জন্য দীর্ঘ সময় ইবাদতে মশগুল থাকা যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে ‘জিকির’ হতে পারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম।

জিকির শব্দের আভিধানিক অর্থ স্মরণ করা। স্রষ্টার স্মরণে জিকির করার জন্য কোনো বিশেষ স্থান বা সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। দাঁড়ানো, বসা কিংবা শোয়া—যেকোনো অবস্থায় এমনকি ওজুবিহীন অবস্থায়ও আল্লাহর জিকির করা সম্ভব। ইবাদতের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে জিকিরই হলো সহজতম। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে মহান আল্লাহ জিকিরের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। সুরা আরাফের ২০৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে মনে মনে বিনয় ও ভয়ের সঙ্গে স্মরণ করো এবং অনুচ্চস্বরে সকালে ও সন্ধ্যায় জিকির করো; তোমরা গাফেল বা বেখবর হয়ো না।’ অন্য এক স্থানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেন তারা তাঁকে ডাকে, আর তিনি তাতে সাড়া দেবেন।

জিকিরের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক চমৎকার উপমা দিয়েছেন। বুখারি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিকিরকারী ও জিকিরবিমুখ ব্যক্তির তুলনা হলো জীবিত ও মৃতের মতো। অর্থাৎ জিকিরের মাধ্যমেই মুমিনের অন্তর জীবিত থাকে। তিরমিজি শরিফের এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জিকির এমন এক আমল যা স্বর্ণ-রুপা দান কিংবা শত্রুর মোকাবিলা করার চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে অধিক মর্যাদাকর ও পবিত্র।

দৈনন্দিন জীবনে জিকিরের অভ্যাস গড়া অত্যন্ত সহজ। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর রাসুল (সা.) নির্দেশিত দোয়া ও জিকিরগুলো পাঠ করা যেতে পারে। যেমন—প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করলে জান্নাতের পথ সুগম হয়। এছাড়া ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠের মাধ্যমে অতীতের পাপ মোচনের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে। সকালে ও সন্ধ্যায় ১০ বার করে দরুদ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন রাসুল (সা.)-এর সুপারিশ পাওয়া নিশ্চিত হয়। এছাড়া সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠের ফজিলতও অপরিসীম।

পরিশেষে, রমজানের এই মূল্যবান সময়গুলোকে হেলায় না হারিয়ে আমাদের প্রত্যেকের উচিত জিকিরের মাধ্যমে জিহ্বাকে সজীব রাখা। কর্মজীবী ব্যক্তিরা কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে কিংবা গৃহিণীরা সাংসারিক কাজের ফাঁকে অনায়াসেই তাসবিহ পাঠ করতে পারেন। অল্প পরিশ্রমে অধিক সওয়াব অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রমজানকে আরও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমীন।