ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ

## শিরোনাম: চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার প্রবাসীর স্ত্রীর গলিত লাশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজার: অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসে নিখোঁজ হওয়া এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার হয়েছে চারদিন পর। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া কোহিনুর আক্তার (৩০) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইল পাড়ার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

বিস্তারিত:

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কোহিনুর আক্তার তার অসুস্থ ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আসেন। গত ৪ মার্চ শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে ওষুধ আনতে বের হন তিনি, কিন্তু এরপর থেকে আর ফিরে আসেননি।

কোহিনুর আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তার স্বজনরা হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাকে খুঁজতে শুরু করেন। তাকে খুঁজে পেতে তারা উখিয়া থানা, কক্সবাজার সদর মডেল থানা এবং র‌্যাব-১৫ এর সহায়তাও কামনা করেন। কিন্তু টানা তিনদিন ধরেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

হঠাৎ শনিবার সকালে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, কোহিনুর আক্তার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে বের হননি। এই তথ্য পাওয়ার পর লিফটের নিচের অংশে তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অবশেষে, নিখোঁজের চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে গৃহবধূ কোহিনুর আক্তারের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালের আরএমও ডা. সাবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল ধারণা করছেন, কোহিনুর আক্তার লিফটে উঠার সময় নিচে পড়ে যান। সম্ভবত, উপর থেকে লিফট আসার আগেই দরজা খুলে যাওয়ায় তিনি লিফটের নিচে পড়ে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জেলা সদর হাসপাতাল এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। তাদের মতে, যেখানে দিনরাত শত শত রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত, সেখানে হাসপাতালের ভেতরে একটি মরদেহ তিনদিন ধরে পড়ে রইল কিভাবে? হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নজরদারি কতটা দুর্বল হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

তবে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন। তিনি আরও জানান, শনিবার দুপুরের পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা ৪ বাংলাদেশি বর্ণনা দিলেন সেই মিসাইল হামলার

চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

## শিরোনাম: চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার প্রবাসীর স্ত্রীর গলিত লাশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজার: অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসে নিখোঁজ হওয়া এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার হয়েছে চারদিন পর। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া কোহিনুর আক্তার (৩০) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইল পাড়ার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

বিস্তারিত:

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কোহিনুর আক্তার তার অসুস্থ ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আসেন। গত ৪ মার্চ শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে ওষুধ আনতে বের হন তিনি, কিন্তু এরপর থেকে আর ফিরে আসেননি।

কোহিনুর আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তার স্বজনরা হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাকে খুঁজতে শুরু করেন। তাকে খুঁজে পেতে তারা উখিয়া থানা, কক্সবাজার সদর মডেল থানা এবং র‌্যাব-১৫ এর সহায়তাও কামনা করেন। কিন্তু টানা তিনদিন ধরেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

হঠাৎ শনিবার সকালে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, কোহিনুর আক্তার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে বের হননি। এই তথ্য পাওয়ার পর লিফটের নিচের অংশে তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অবশেষে, নিখোঁজের চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে গৃহবধূ কোহিনুর আক্তারের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালের আরএমও ডা. সাবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল ধারণা করছেন, কোহিনুর আক্তার লিফটে উঠার সময় নিচে পড়ে যান। সম্ভবত, উপর থেকে লিফট আসার আগেই দরজা খুলে যাওয়ায় তিনি লিফটের নিচে পড়ে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জেলা সদর হাসপাতাল এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। তাদের মতে, যেখানে দিনরাত শত শত রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত, সেখানে হাসপাতালের ভেতরে একটি মরদেহ তিনদিন ধরে পড়ে রইল কিভাবে? হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নজরদারি কতটা দুর্বল হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

তবে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন। তিনি আরও জানান, শনিবার দুপুরের পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।