মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং একটি সাহসী ও নীতিবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে বদর যুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী। তিনি বলেন, ঈমান, নামাজ, রোজা ও হজের মতো বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের ইতিহাসও ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শনিবার (১৭ রমজান) ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা মোরশেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ড. ঈসা শাহেদী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আনফাল ও সূরা আলে ইমরানের প্রায় ৬৫টি আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বদর যুদ্ধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন। এর মাধ্যমেই এই যুদ্ধের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ফিলিস্তিন ও গাজায় চলমান নির্মম গণহত্যা কিংবা ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির দিকে তাকালে মুসলিম নেতাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ও কাপুরুষতা পরিলক্ষিত হয়। এই নিস্তেজ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে নতুন প্রজন্মকে ইসলামের বীরত্বগাথা ও জিহাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য নয়, বরং তাকওয়া বা খোদাভীতির ভিত্তিতে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনই হওয়া উচিত ইসলামী রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তরে কোরআন ও হাদিসের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি।
সভায় বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস এসেছে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের জন্য। কোরআন নাজিলের এই মাসে যদি শিক্ষাব্যবস্থায় সঠিক ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো যায়, তবেই সিয়াম সাধনা দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















