কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় চাঁদা না পেয়ে গণেশ পাল (৪০) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে শহরের পল্লান কাটা এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গণেশ পাল ওই এলাকার বিশ্বনাথ পালের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণেশ পালের বাড়িতে সম্প্রতি একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এই নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে স্থানীয় জিদান নামে এক যুবক গণেশ পালের দোকানে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। সে সময় গণেশ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার দুপুরে জিদান ও তার এক সহযোগী গণেশের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
নিহতের স্ত্রী নেপালী পালের ভাষ্যমতে, তার চোখের সামনেই জিদান ও তার সহযোগী গণেশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গণেশ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, নিহতের বুকের বাম পাশে গভীর ক্ষত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর উদয় শংকর পাল মিঠু এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ন্যাক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাড়ির সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ সংক্রান্ত অর্থ আদায়ের বিরোধের জেরে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 





















