কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান করা গরু নিলামে কিনে টাকা পরিশোধ না করা এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. জীবন মিয়া (২৮) নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা দাবি করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মসজিদ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি পাগলা মসজিদের দান করা গবাদিপশুর উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৫৫ হাজার টাকায় একটি গরু কিনে নেন কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার বাসিন্দা জীবন মিয়া। নিলামের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা করেননি। পরবর্তীতে মসজিদের পক্ষ থেকে একাধিকবার পাওনা টাকা দাবি করা হলে তিনি তা পরিশোধ না করে উল্টো কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জীবন মিয়া ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হন চার সাংবাদিক। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি খাইরুল আলম ফয়সাল এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকুসহ আরও দুইজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জীবন মিয়ার নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহত সাংবাদিকরা কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে জীবন মিয়া নিজেকে কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পৌর বিএনপির দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কমিটি বর্তমানে বিলুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, ফলে তার এই দাবির কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই।
এ ঘটনায় সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জীবন মিয়া ও তার সহযোগী মনাকে গ্রেপ্তার করেছে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















