মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় রাষ্ট্র বাহরাইনে গভীর রাতে সিরিজ ড্রোন হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর না মিললেও, হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন ও বিস্ফোরণে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয় সময় গতকাল গভীর রাতে দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন দিয়ে সমন্বিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী মানামার পূর্বে অবস্থিত একটি প্রধান তেল শোধনাগার এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। হামলার পরপরই উভয় স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করতে হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে তেল শোধনাগারের উৎপাদন প্রক্রিয়া আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রেও বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যার জেরে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কাপুরুষোচিত এই হামলা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করার একটি অপচেষ্টা। জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” একইসঙ্গে নাগরিকদের ধৈর্য ধরার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী অথবা ইরান-সমর্থিত কোনো মিলিশিয়া গোষ্ঠী এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বাহরাইনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহরাইন তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে বলেও জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























