ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

বিস্মৃতির রাজনীতি ও ইতিহাস বিকৃতির সংকট

স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার কেবল সম্পদ বা শরীরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানুষের স্মৃতিকেও দখল করে নেয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিস্মৃতি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প। যখন কোনো রাষ্ট্র তার আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চায়, তখন তারা নিজেদের প্রতিকূল ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালায়। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের পাশাপাশি অনেক সময় রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকরাও অনিচ্ছাকৃতভাবে এই বিস্মৃতির সহায়ক হয়ে ওঠেন, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানকে ঘিরে যে স্মৃতির লড়াই চলছে, তা গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিস্মৃতির এই রাজনীতি নতুন নয়; দীর্ঘ সময় ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের ইতিহাসকেও মূলধারার জাতীয় স্মৃতি থেকে সুকৌশলে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭২ সালের সংবিধানে তাদের বাঙালি পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা ছিল এই স্মৃতিহত্যার প্রথম বড় ধাপ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বকীয়তা ও সংগ্রামের ইতিহাসকে আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা: ৪৮ ঘণ্টায় ২০০ এফআইআর ও চার শতাধিক গ্রেপ্তার

বিস্মৃতির রাজনীতি ও ইতিহাস বিকৃতির সংকট

আপডেট সময় : ০২:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার কেবল সম্পদ বা শরীরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানুষের স্মৃতিকেও দখল করে নেয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিস্মৃতি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প। যখন কোনো রাষ্ট্র তার আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চায়, তখন তারা নিজেদের প্রতিকূল ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালায়। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের পাশাপাশি অনেক সময় রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকরাও অনিচ্ছাকৃতভাবে এই বিস্মৃতির সহায়ক হয়ে ওঠেন, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানকে ঘিরে যে স্মৃতির লড়াই চলছে, তা গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিস্মৃতির এই রাজনীতি নতুন নয়; দীর্ঘ সময় ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের ইতিহাসকেও মূলধারার জাতীয় স্মৃতি থেকে সুকৌশলে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭২ সালের সংবিধানে তাদের বাঙালি পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা ছিল এই স্মৃতিহত্যার প্রথম বড় ধাপ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বকীয়তা ও সংগ্রামের ইতিহাসকে আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।