ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা

বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আগামী জুন মাসের মধ্যেই ব্যারাকে ফিরে যাবেন। সরকারের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনী কার্যত ভেঙে পড়লে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মাঠে থেকে যায়। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে বড় জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে। জুন মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। মঙ্গলবারের বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার ছাড়াও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছিলেন, পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার শুরু হয়।
তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সময়ের মতো সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান বলেন, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালনের কারণে সদস্যদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল।
এ প্রেক্ষাপটেই আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর: ডিসি সম্মেলনে সরকারের কড়া বার্তা

জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আগামী জুন মাসের মধ্যেই ব্যারাকে ফিরে যাবেন। সরকারের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনী কার্যত ভেঙে পড়লে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মাঠে থেকে যায়। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে বড় জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে। জুন মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। মঙ্গলবারের বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার ছাড়াও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছিলেন, পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার শুরু হয়।
তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সময়ের মতো সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান বলেন, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালনের কারণে সদস্যদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল।
এ প্রেক্ষাপটেই আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।