ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

রাজধানীর কামারপাড়ায় ভোরে গ্যাস বিস্ফোরণ: শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ দগ্ধ ১০

রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বামনারটেক এলাকার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), তিন বছরের শিশু কন্যা রোজা, সোনিয়ার বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা (১৯) এবং অপর এক আত্মীয় রুবেল (৩৫)। তারা সবাই ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর বাসায় আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, চিকিৎসাধীন ১০ জনেরই শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক; তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া এনায়েত ৪৫ শতাংশ, রিয়া ও রুবেল ৩২ শতাংশ করে, জুনায়েদ ২৪ শতাংশ, হাবিব ১৯ শতাংশ, শিশু রোজা ১৮ শতাংশ, দোলানা ১৪ শতাংশ, আয়েশা ১২ শতাংশ এবং অপর রুবেল ৭ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবপাচার ও প্রতারণা: বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

রাজধানীর কামারপাড়ায় ভোরে গ্যাস বিস্ফোরণ: শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ দগ্ধ ১০

আপডেট সময় : ১২:০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বামনারটেক এলাকার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), তিন বছরের শিশু কন্যা রোজা, সোনিয়ার বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা (১৯) এবং অপর এক আত্মীয় রুবেল (৩৫)। তারা সবাই ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর বাসায় আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, চিকিৎসাধীন ১০ জনেরই শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক; তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া এনায়েত ৪৫ শতাংশ, রিয়া ও রুবেল ৩২ শতাংশ করে, জুনায়েদ ২৪ শতাংশ, হাবিব ১৯ শতাংশ, শিশু রোজা ১৮ শতাংশ, দোলানা ১৪ শতাংশ, আয়েশা ১২ শতাংশ এবং অপর রুবেল ৭ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।