মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে, এবং এর আঁচ এবার ভারতের অর্থনীতিতেও লেগেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং তেহরানের পাল্টা হামলা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। জ্বালানি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে যেকোনো সংঘাত বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করার ক্ষমতা রাখে, এবং ভারত এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়।
বিশেষ করে, জ্বালানি আমদানিতে বাধার সম্মুখীন হওয়া এবং বিমান চলাচলের ওপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধ ভারতের অর্থনীতিকে এক স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে এই সংকট ভারতের শিল্পোৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে, ভারতের অর্থনীতির জন্য আরও বড় একটি দুশ্চিন্তার কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকের পাঠানো রেমিট্যান্স। এটি ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, যা প্রায় ৩.৫ শতাংশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক কর্মরত আছেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দেশের পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা তাদের কাজের পরিবেশ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ভারতের বিদ্যমান আর্থিক ঘাটতি পূরণে এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক নতুন এবং গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























