ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আঁচ: চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল কিনতে উপচে পড়া ভিড়, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন পাম্পে যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইনের দৈর্ঘ্য আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো, দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুত তেল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের হাটহাজারী সড়কের পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকার একটি সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ রশি টেনে যানবাহন প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। পাম্পে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যা থেকেই গাড়ির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মজুত তেল ফুরিয়ে গেছে। নতুন তেলের অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং তা আসার পর পুনরায় সরবরাহ শুরু হবে।

তবে, নগরের গণি বেকারি মোড়ের আরেকটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে তেল কেনার জন্য যানবাহনের অন্তত আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

গণি বেকারি মোড়ের ফিলিং স্টেশনটির একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কাছে তেলের কোনো সংকট নেই এবং দামও বাড়েনি। তেলের সংকট হবে এমন কোনো তথ্যও আমাদের কাছে আসেনি। এরপরও মানুষ কেন এভাবে তেল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

তেল কেনার লাইনে দাঁড়ানো এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “টিভি-সংবাদপত্রে দেখেছি ইরান যুদ্ধের কারণে নাকি দেশে তেল আসা কমে যাচ্ছে। দেশে যা আছে, তাও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই কয়েকদিনের জন্য তেল নিয়ে রাখতে এসেছি।”

নুরুল ইসলাম নামের এক মাহিন্দ্রা চালক বলেন, “আমি মুরাদপুর থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করি। নগরের প্রায় সব পাম্পেই তেলের জন্য লম্বা লাইন দেখছি। কিছু পাম্প আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দিচ্ছে।”

এ প্রসঙ্গে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানান, “আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। তেল কেনার জন্য অযথা হুড়োহুড়ি করার প্রয়োজন নেই। আশা করি, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আঁচ: চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল কিনতে উপচে পড়া ভিড়, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

আপডেট সময় : ০৬:২১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন পাম্পে যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইনের দৈর্ঘ্য আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো, দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুত তেল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের হাটহাজারী সড়কের পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকার একটি সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ রশি টেনে যানবাহন প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। পাম্পে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যা থেকেই গাড়ির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মজুত তেল ফুরিয়ে গেছে। নতুন তেলের অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং তা আসার পর পুনরায় সরবরাহ শুরু হবে।

তবে, নগরের গণি বেকারি মোড়ের আরেকটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে তেল কেনার জন্য যানবাহনের অন্তত আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

গণি বেকারি মোড়ের ফিলিং স্টেশনটির একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কাছে তেলের কোনো সংকট নেই এবং দামও বাড়েনি। তেলের সংকট হবে এমন কোনো তথ্যও আমাদের কাছে আসেনি। এরপরও মানুষ কেন এভাবে তেল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

তেল কেনার লাইনে দাঁড়ানো এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “টিভি-সংবাদপত্রে দেখেছি ইরান যুদ্ধের কারণে নাকি দেশে তেল আসা কমে যাচ্ছে। দেশে যা আছে, তাও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই কয়েকদিনের জন্য তেল নিয়ে রাখতে এসেছি।”

নুরুল ইসলাম নামের এক মাহিন্দ্রা চালক বলেন, “আমি মুরাদপুর থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করি। নগরের প্রায় সব পাম্পেই তেলের জন্য লম্বা লাইন দেখছি। কিছু পাম্প আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দিচ্ছে।”

এ প্রসঙ্গে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানান, “আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। তেল কেনার জন্য অযথা হুড়োহুড়ি করার প্রয়োজন নেই। আশা করি, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।”