রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় এক আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে তুরাগের ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডের একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসার ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বাসায় কোনো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না; বরং লাইনের গ্যাসের সংযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের লাইনে লিকেজ অথবা রান্নার চুলার চাবি খোলা থাকার কারণে গ্যাস ঘরের ভেতরে জমা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা আগুন জ্বালানোর চেষ্টার ফলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, এর আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মিডিয়া বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় জমে থাকা গ্যাস বের হতে পারেনি। সেহরির সময় হওয়ায় হয়তো রান্না বা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করার সময় স্পার্ক হয়েছিল। তবে তদন্তের পরই বিস্তারিত কারণ জানা যাবে। তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একপাশের দেয়াল ধসে পড়েছে। কিসের বিস্ফোরণ তা জানতে তদন্ত চলছে এবং আহতরা সুস্থ হলে তাদের সঙ্গে কথা বলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের নিবিড় পরিচর্যা চলছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে সোনিয়ার শরীরের শতভাগ, মো. রুবেলের ৩২ শতাংশ, রোজার ১৮ শতাংশ, মো. হাবিরের ১৯ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, এনায়েতের ৪৫ শতাংশ, দোলানা খাতুনের ১৪ শতাংশ, জোনায়েদের ২৪ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ এবং আবুল কালাম রুবেলের শরীরের সাত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
আহতদের স্বজন সাজেদ মাতব্বর, যিনি একই ভবনের চারতলায় থাকেন, তিনি জানান, বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। নিচে নেমে তিনি দেখতে পান দোতলার ফ্ল্যাটের একপাশের দেয়াল ভেঙে পড়েছে এবং সবাই চিৎকার করছে। দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি কিসের শব্দ ছিল তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। দগ্ধরা হলেন – রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), এনায়েতে ভাগনি আয়েশা (১৯) ও আবুল কালাম রুবেল (৩৫)।
রিপোর্টারের নাম 























