কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যাম্পে দুই শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যা সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে উখিয়ার ৮-ইস্ট নম্বর ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ কামাল। তিনি ক্যাম্পের প্রভাবশালী নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই বলে জানা গেছে। এর ঠিক আগের দিন, মঙ্গলবার (৫ মে) ৭ নম্বর ক্যাম্পে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন ‘হালিম গ্রুপ’-এর প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম। হালিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন এআরও গ্রুপের শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওই একই ঘটনায় আরও দুইজন রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ক্যাম্পের ভেতরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখা নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরেই একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। নিহত হালিমকে লক্ষ্য করে একদল সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই গ্রুপের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি খুনের ঘটনায় পুরো ক্যাম্প এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মূলত আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসার ভাগাভাগি নিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ক্যাম্প এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এই অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের মতে, ক্যাম্পে এই ধরনের ‘মব’ সহিংসতা ও সশস্ত্র সংঘাত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ। উখিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাশেম কন্ট্রাক্টর সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত এখন রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে তা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এই সংকট নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান বলে তিনি মনে করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























