বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ শেষে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.১৭ বিলিয়ন ডলারে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এ ঘাটতি ছিল ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মার্চ মাসেই ঘাটতি বেড়েছে আরও ২.২৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩২.৩৮ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫১.৫৫ বিলিয়ন ডলারে। ফলে আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রসারিত হয়েছে।
তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা কমেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ১ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চ শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ০.৩৯ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ৪.০৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩.৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ট্রেড ক্রেডিটে উদ্বৃত্ত বেড়ে ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে দেশের সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে; প্রথম আট মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৬৫ বিলিয়ন ডলারে।
বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ হেলাল আহমেদ খান জনি বলেন, জ্বালানি তেল, এলএনজি, শিল্প খাতের কাঁচামাল ও ক্যাপিটাল মেশিনারির আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াই ঘাটতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানির সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, টাকার মান ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























