ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তা: বেবিচকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলির গুঞ্জনে স্থবিরতা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ১৬৫০ কোটি টাকা দেনা পরিশোধের বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। জানা গেছে, এই অর্থ পরিশোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাওয়া হবে।

এদিকে, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকারী এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)-এর পক্ষ থেকে বর্তমান বেবিচক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেবিচক আলোচনার জন্য জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশনকে মেইল করলেও, ফিরতি মেইলে তারা বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে বসতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

বেবিচকের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বদলির গুঞ্জনেই এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই গুঞ্জনের কারণে ফাইল আটকে রাখাসহ কাজে মনোযোগ হারাচ্ছেন কর্মকর্তারা। সম্প্রতি এক ঠিকাদারের তোপের মুখে পড়েন বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস)। ফাইল আটকে রাখার অভিযোগে তার কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বেবিচক পরিদর্শনে আসেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি জানতে তৃতীয় টার্মিনালও ঘুরে দেখেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দ্রুত টার্মিনালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তারা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনালও পরিদর্শন করেন।

সূত্র জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। তিনি নির্মাণকাজে অংশ নেওয়া এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। ওই বৈঠক শেষে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অংশ নেওয়া জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের যৌথ কনসোর্টিয়াম ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’-এর দেনা-পাওনা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ছিল চরমে। এমনকি মেগা এই প্রকল্পকে বিতর্কিত করতেও তারা সচেষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, এডিসি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায় এবং রায় তাদের পক্ষে আসে, যার কারণে বাংলাদেশকে ১৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে আবারও চিঠি চালাচালি মানেই বিষয়টিকে আরও দীর্ঘায়িত করার কৌশল। তাদের মতে, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে থার্ড টার্মিনাল চালু তো দূরের কথা, আলোচনায়ও কোনো অগ্রগতি আনা সম্ভব হবে না।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ একজন কর্মকর্তা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান প্রশাসন দিয়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যাবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এডিসির সঙ্গে যে প্রশাসন আলোচনা করে ফলাফল আনতে পারেনি, উল্টো আমাদের ওপর বিশাল অঙ্কের টাকার খড়গ চেপে বসেছে, সেই কর্মকর্তারা আবারও আলোচনায় বসে কতটুকু সফলতা আনতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি আন্তমন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে, সেখানে দক্ষ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে, সেক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। জাপান ও কোরিয়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা ভালো ফল আনতে পারতাম, কিন্তু অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তা: বেবিচকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলির গুঞ্জনে স্থবিরতা

আপডেট সময় : ০৫:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ১৬৫০ কোটি টাকা দেনা পরিশোধের বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। জানা গেছে, এই অর্থ পরিশোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাওয়া হবে।

এদিকে, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকারী এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)-এর পক্ষ থেকে বর্তমান বেবিচক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেবিচক আলোচনার জন্য জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশনকে মেইল করলেও, ফিরতি মেইলে তারা বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে বসতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

বেবিচকের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বদলির গুঞ্জনেই এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই গুঞ্জনের কারণে ফাইল আটকে রাখাসহ কাজে মনোযোগ হারাচ্ছেন কর্মকর্তারা। সম্প্রতি এক ঠিকাদারের তোপের মুখে পড়েন বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস)। ফাইল আটকে রাখার অভিযোগে তার কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বেবিচক পরিদর্শনে আসেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি জানতে তৃতীয় টার্মিনালও ঘুরে দেখেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দ্রুত টার্মিনালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তারা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনালও পরিদর্শন করেন।

সূত্র জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। তিনি নির্মাণকাজে অংশ নেওয়া এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। ওই বৈঠক শেষে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অংশ নেওয়া জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের যৌথ কনসোর্টিয়াম ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’-এর দেনা-পাওনা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ছিল চরমে। এমনকি মেগা এই প্রকল্পকে বিতর্কিত করতেও তারা সচেষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, এডিসি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায় এবং রায় তাদের পক্ষে আসে, যার কারণে বাংলাদেশকে ১৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে আবারও চিঠি চালাচালি মানেই বিষয়টিকে আরও দীর্ঘায়িত করার কৌশল। তাদের মতে, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে থার্ড টার্মিনাল চালু তো দূরের কথা, আলোচনায়ও কোনো অগ্রগতি আনা সম্ভব হবে না।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ একজন কর্মকর্তা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান প্রশাসন দিয়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যাবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এডিসির সঙ্গে যে প্রশাসন আলোচনা করে ফলাফল আনতে পারেনি, উল্টো আমাদের ওপর বিশাল অঙ্কের টাকার খড়গ চেপে বসেছে, সেই কর্মকর্তারা আবারও আলোচনায় বসে কতটুকু সফলতা আনতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি আন্তমন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে, সেখানে দক্ষ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে, সেক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। জাপান ও কোরিয়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা ভালো ফল আনতে পারতাম, কিন্তু অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।”