ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসিকে সক্রিয় নেতৃত্ব ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) শুধু তদারকিতে সীমাবদ্ধ না থেকে স্ব-উদ্যোগে সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (৪ মার্চ) ইউজিসি ভবনে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময় অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ইউজিসি’র প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ইউজিসি’র অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, সচিব, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন ইউজিসিকে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, উচ্চশিক্ষার সাফল্য ও ব্যর্থতা বহুলাংশে ইউজিসি’র কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ক্রমবিস্তারের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে তদারকি ও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের পর ইউজিসি’র অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধও করেন মন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী, যা একটি বড় সমস্যা। আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশে নেই। তিনি অন্তত একটি মানসম্পন্ন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। সাত কলেজের বিষয়ে একটি সাময়িক সমাধানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফায়েজ সরকারের শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্বারোপের প্রশংসা করে বলেন, এর মাধ্যমে দেশ উপকৃত হবে। উচ্চশিক্ষা খাতে পাকিস্তানের অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় পাকিস্তান প্রশংসনীয় অগ্রগতি লাভ করেছে, যা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশও অনুরূপ অবস্থানে যেতে পারবে। অধ্যাপক ফায়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা ও বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির জন্যও সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় ইউজিসি’র পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা কমিশন আইন দ্রুত অনুমোদন, ইউজিসি’র চাকরি প্রবিধানমালা সংশোধন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট সমাধান এবং সার্ক ফেলোশিপ পুনরায় চালু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তদবিরের অভিযোগ তুলে হত্যা মামলার রায় স্থগিত রাখলেন বিচারক

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসিকে সক্রিয় নেতৃত্ব ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) শুধু তদারকিতে সীমাবদ্ধ না থেকে স্ব-উদ্যোগে সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (৪ মার্চ) ইউজিসি ভবনে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময় অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ইউজিসি’র প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ইউজিসি’র অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, সচিব, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন ইউজিসিকে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, উচ্চশিক্ষার সাফল্য ও ব্যর্থতা বহুলাংশে ইউজিসি’র কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ক্রমবিস্তারের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে তদারকি ও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের পর ইউজিসি’র অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধও করেন মন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী, যা একটি বড় সমস্যা। আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশে নেই। তিনি অন্তত একটি মানসম্পন্ন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। সাত কলেজের বিষয়ে একটি সাময়িক সমাধানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফায়েজ সরকারের শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্বারোপের প্রশংসা করে বলেন, এর মাধ্যমে দেশ উপকৃত হবে। উচ্চশিক্ষা খাতে পাকিস্তানের অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় পাকিস্তান প্রশংসনীয় অগ্রগতি লাভ করেছে, যা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশও অনুরূপ অবস্থানে যেতে পারবে। অধ্যাপক ফায়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা ও বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির জন্যও সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় ইউজিসি’র পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা কমিশন আইন দ্রুত অনুমোদন, ইউজিসি’র চাকরি প্রবিধানমালা সংশোধন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট সমাধান এবং সার্ক ফেলোশিপ পুনরায় চালু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়।