ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই চালকের সাজা, মালিকরা নির্দোষ!

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি বাজারে অবৈধ উপায়ে সার পরিবহনের দায়ে এক ভ্যানচালক ও এক ট্রাকড্রাইভারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে সার ও গাড়ির মালিকদের বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সারের টাকা ট্রেজারিতে জমা হয়েছে, কিন্তু নিলাম বা মালিকদের দায়িত্ব নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পলাশী ইউনিয়ন পরিষদে হাজার খানেক মানুষের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে এ সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য, পুলিশ মোবাইল টিম এবং সাধারণ জনসাধারণ। সারের মালিক, ম্যানেজার, মিনি ট্রাকের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা ছিলেন ঘটনাস্থলে। অভিযোগ রয়েছে, জনসাধারণের মোবাইল ফোন কেড়ে ছবি ও ভিডিও ডিলেট করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর নামুড়ি গার্লস স্কুলের পাশে একটি মিনি ট্রাকে সার লোড হতে দেখে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড ও পুলিশের মোবাইল টিম এসে সার, ভ্যান ও ট্রাক জব্দ করেন। কিন্তু মোবাইল কোর্টের দ্রুত কার্যক্রমে দুই চালককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও গাড়ি ও মালিকদের বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, “স্থানীয়রা সার উদ্ধার করে ইউপি সদস্যের কাছে দিয়েছিলেন। ইউপি সদস্য ৫৩ বস্তা সার ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। পিকআপ ও ভ্যান জব্দ করা হয়নি। আমরা নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।”

মোবাইল কোর্টের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, “মিনিট্রাক ও ভ্যান জব্দ করা হয়নি। মালিক ও ট্রাক চালকের সঙ্গে চোরাই কাজের সংশ্লিষ্টতা ছিল। হয়তো তারা না বুঝে করেছে। গাড়ি জব্দ করা অতিরিক্ত হতো, তাই দুই চালককে সাজা দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী মিজানুর রহমান জানান, মোবাইল কোর্টের জব্দকৃত মালামাল ছেড়ে দেওয়ার কোনও এখতিয়ার নেই। কোনও মালামালে সাজা আরোপ করা হলে সেটি জব্দ করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন সহকারী সচিবের ঢাকা সফর: মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই চালকের সাজা, মালিকরা নির্দোষ!

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি বাজারে অবৈধ উপায়ে সার পরিবহনের দায়ে এক ভ্যানচালক ও এক ট্রাকড্রাইভারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে সার ও গাড়ির মালিকদের বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সারের টাকা ট্রেজারিতে জমা হয়েছে, কিন্তু নিলাম বা মালিকদের দায়িত্ব নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পলাশী ইউনিয়ন পরিষদে হাজার খানেক মানুষের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে এ সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য, পুলিশ মোবাইল টিম এবং সাধারণ জনসাধারণ। সারের মালিক, ম্যানেজার, মিনি ট্রাকের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা ছিলেন ঘটনাস্থলে। অভিযোগ রয়েছে, জনসাধারণের মোবাইল ফোন কেড়ে ছবি ও ভিডিও ডিলেট করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর নামুড়ি গার্লস স্কুলের পাশে একটি মিনি ট্রাকে সার লোড হতে দেখে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড ও পুলিশের মোবাইল টিম এসে সার, ভ্যান ও ট্রাক জব্দ করেন। কিন্তু মোবাইল কোর্টের দ্রুত কার্যক্রমে দুই চালককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও গাড়ি ও মালিকদের বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, “স্থানীয়রা সার উদ্ধার করে ইউপি সদস্যের কাছে দিয়েছিলেন। ইউপি সদস্য ৫৩ বস্তা সার ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। পিকআপ ও ভ্যান জব্দ করা হয়নি। আমরা নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।”

মোবাইল কোর্টের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, “মিনিট্রাক ও ভ্যান জব্দ করা হয়নি। মালিক ও ট্রাক চালকের সঙ্গে চোরাই কাজের সংশ্লিষ্টতা ছিল। হয়তো তারা না বুঝে করেছে। গাড়ি জব্দ করা অতিরিক্ত হতো, তাই দুই চালককে সাজা দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী মিজানুর রহমান জানান, মোবাইল কোর্টের জব্দকৃত মালামাল ছেড়ে দেওয়ার কোনও এখতিয়ার নেই। কোনও মালামালে সাজা আরোপ করা হলে সেটি জব্দ করতে হবে।